পোশাকের বাইরে নতুন শিল্প খাতে দ. কোরিয়ার বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

জাতীয়

তৈরি পোশাক ও বস্ত্রখাতের বাইরে নতুন শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে ইলেকট্রনিকস,

2026-11-03T11:40:10+06:00
2026-11-03T11:40:10+06:00
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

পোশাকের বাইরে নতুন শিল্প খাতে দ. কোরিয়ার বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪০ এএম   (ভিজিট : ১৪)
দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী জুং-সুং পার্ক ও বাংলাদেশের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী জুং-সুং পার্ক ও বাংলাদেশের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

তৈরি পোশাক ও বস্ত্রখাতের বাইরে নতুন শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর, জাহাজ নির্মাণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আধুনিক উৎপাদনশিল্পে কোরীয় বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরেছে সরকার।

সোমবার (২ নভেম্বর) দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী জুং-সুং পার্কের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

বৈঠকে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্টের (সিইপিএ) আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রচলিত বস্ত্র ও তৈরি পোশাকনির্ভর বাণিজ্যের বাইরে গিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমুখী অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন বাংলাদেশের মন্ত্রী।

তিনি বলেন, সিইপিএ নিয়ে আলোচনা সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশ ও কোরিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইলেকট্রনিকস ও সেমিকন্ডাক্টর, জাহাজ নির্মাণ ও সামুদ্রিক শিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল ও সৃজনশীল শিল্পে সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ছাড়া জ্বালানি, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, লজিস্টিকস, আধুনিক উৎপাদনশিল্প ও অবকাঠামো খাতে কোরীয় বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরেন তিনি।

বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও কোরীয় প্রতিনিধিদের জানান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে মূলধন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার ডিজিটালাইজেশন ও স্বয়ংক্রিয়করণ, ইলেকট্রনিকস শিল্পের কাঁচামালের ওপর শুল্ক ২৬ শতাংশ থেকে শূন্যে নামিয়ে আনা এবং কাস্টমস ও বন্দর কার্যক্রম সহজ ও গতিশীল করার উদ্যোগ।

কৌশলগত অবকাঠামো, জ্বালানি ও অন্যান্য অগ্রাধিকারমূলক বিনিয়োগ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মডেল আরও বেশি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি-বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়। এই গ্রুপ বিনিয়োগের অগ্রাধিকার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা, ব্যবসা সহজীকরণ, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করবে।

কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী জুং-সুং পার্ক বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী কোরীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন সমস্যা ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের আগ্রহের বিষয়গুলোও তুলে ধরেন তিনি। এসব বিষয়ে বাংলাদেশের সরকারের বিবেচনা ও পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য একটি সমন্বিত তালিকা দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে কোরীয় পক্ষ।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সিইপিএ-পরবর্তী সুযোগকে বাস্তব ও দৃশ্যমান অর্থনৈতিক সুফলে রূপ দিতে বাংলাদেশ কোরিয়া সরকার ও দেশটির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্পের বহুমুখীকরণ, মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈশ্বিক মূল্য সংযোজন শৃঙ্খলে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোই দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের পরবর্তী পর্যায়ের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ