শুধু বর্জ্য কুড়ালে হবে না, প্লাস্টিকের দায় নিতে হবে উৎপাদককেও

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আবহাওয়া ও পরিবেশ

প্লাস্টিক দূষণ ঠেকাতে শুধু ব্যবহারের পর বর্জ্য সংগ্রহ কিংবা পরিচ্ছন্নতা অভিযান যথেষ্ট নয়। উৎপাদনে কাঁচামাল, পানি ও জ্বালানির

2026-11-01T15:16:46+06:00
2026-11-01T15:16:46+06:00
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

শুধু বর্জ্য কুড়ালে হবে না, প্লাস্টিকের দায় নিতে হবে উৎপাদককেও
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: রোববার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৬ পিএম   (ভিজিট : ১৮)
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

প্লাস্টিক দূষণ ঠেকাতে শুধু ব্যবহারের পর বর্জ্য সংগ্রহ কিংবা পরিচ্ছন্নতা অভিযান যথেষ্ট নয়। উৎপাদনে কাঁচামাল, পানি ও জ্বালানির অপচয় কমানো, পণ্যের নকশা, ব্যবহার-পরবর্তী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পুনঃচক্রায়নের সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি। এই লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্লাস্টিক শিল্পে সম্পদের দক্ষ ব্যবহার ও উৎপাদকদের দায়িত্বশীলতা বাড়াতে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো)।

পরিবেশ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ‘বাংলাদেশে টেকসই প্লাস্টিক ব্যবহার ও সামুদ্রিক বর্জ্য প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ’ প্রকল্পের আওতায় এসব কার্যক্রম চলছে। রয়্যাল নরওয়েজিয়ান দূতাবাসের মাধ্যমে প্রকল্পে অর্থায়ন করছে নরওয়ে সরকার।

প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত অগ্রগতি উৎপাদনকারীর সম্প্রসারিত দায়িত্ব বা এক্সটেন্ডেড প্রডিউসার রেসপনসিবিলিটি (ইপিআর) নির্দেশিকা। প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত এ নির্দেশিকা গত ১৩ আগস্ট বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রযোজ্য প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার-পরবর্তী বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উৎপাদক, আমদানিকারক ও ব্র্যান্ড মালিকদের দায়িত্ব নির্ধারণের কাঠামো তৈরি হয়েছে। নির্দেশিকা প্রণয়নে প্রকল্প সহায়তা দিলেও এর বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের।

উৎপাদন পর্যায়ে সম্পদের অপচয় কমাতে কাজ করছে রিসোর্স এফিশিয়েন্ট অ্যান্ড ক্লিনার প্রোডাকশন (আরইসিপি) এবং ডিজাইন ফর এনভায়রনমেন্ট (ডিএফই) পদ্ধতি। আরইসিপির মাধ্যমে উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় কাঁচামাল, পানি ও জ্বালানির অদক্ষ ব্যবহার চিহ্নিত করে অপচয় কমানোর সুযোগ খোঁজা হয়। অন্যদিকে ডিএফই পদ্ধতিতে পণ্যের নকশায় পরিবেশগত বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়, যাতে ব্যবহার শেষে উপকরণ আলাদা করা ও পুনঃচক্রায়ন সহজ হয়।

প্রকল্পের কর্মপত্র অনুযায়ী, আরইসিপি ও ডিএফই উদ্যোগের আওতায় ৪০টি কারখানা মূল্যায়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া ২৮টি প্লাস্টিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরিচ্ছন্ন ও সম্পদ-সাশ্রয়ী উৎপাদন নিয়ে কাজ হয়েছে। শিল্প ও সরকারি খাতের ৮০ জনের বেশি পেশাজীবীকে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এসব উদ্যোগের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হলো মূল্যায়নে উঠে আসা সুপারিশগুলোর বাস্তব প্রয়োগ এবং তার ফল যাচাই। কাঁচামালের ব্যবহার, উৎপাদনের পরিমাণ, বর্জ্য সৃষ্টির হার ও পরিচালন ব্যয়ের আগের ও পরের হিসাব তুলনা করেই প্রকৃত অগ্রগতি মাপা সম্ভব। সম্ভাব্য সাশ্রয় আর বাস্তবে অর্জিত সাশ্রয়ের মধ্যে পার্থক্যও স্পষ্ট রাখা দরকার।

ইপিআর, আরইসিপি ও ডিএফই—তিনটি উদ্যোগ একে অপরের পরিপূরক। ইপিআর ব্যবহার-পরবর্তী বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উৎপাদকের দায়িত্ব নির্ধারণ করে। আরইসিপি উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় সম্পদের দক্ষ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে। আর ডিএফই পণ্যের নকশায় পরিবেশবান্ধব বিবেচনা যুক্ত করে। তবে এসব উদ্যোগের সুফল পেতে স্থানীয় পর্যায়ে বর্জ্য সংগ্রহ, পৃথকীকরণ ও পুনঃচক্রায়নের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্দেশিকা প্রকাশ ও কারিগরি সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও প্লাস্টিক শিল্পে টেকসই পরিবর্তন নিশ্চিত করতে কার্যকর বাস্তবায়ন, স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ এবং ধারাবাহিক তদারকি প্রয়োজন।








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ