তিন দশকে দেশে উচ্চ তাপজনিত মৃত্যু বেড়েছে ১২৮.৮৯ শতাংশ

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

আবহাওয়া ও পরিবেশ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বাড়ছে। গত তিন দশকে উচ্চ তাপমাত্রাজনিত কারণে বাংলাদেশে আট হাজার ৯৯৯ জনের মৃত্যু

2026-10-29T15:09:34+06:00
2026-10-29T15:09:34+06:00
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

তিন দশকে দেশে উচ্চ তাপজনিত মৃত্যু বেড়েছে ১২৮.৮৯ শতাংশ
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৯ পিএম   (ভিজিট : ০)

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বাড়ছে। গত তিন দশকে উচ্চ তাপমাত্রাজনিত কারণে বাংলাদেশে আট হাজার ৯৯৯ জনের মৃত্যু বেড়েছে। যেখানে মৃত্যুর হার বেড়েছে ১২৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ।পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৩ সালে দেশ উচ্চ তাপমাত্রাজনির মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৯৮১ জন, আর ১৯৯০ সালে এ সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৯৮২ জন। এছাড়া তিন দশকে নিম্ন তাপমাত্রাজনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা ৮ হাজার ৮৮১ জন বেড়েছে। ২০২৩ সালে এ কারণে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১২ হাজার ৪২৭ জন, যা ১৯৯০ সালে ছিল ৩ হাজার ৫৪৬ জন। তবে গত তিন দশকে দেশে ডায়রিয়া ও ম্যালেরিয়াজনিত কারণে মৃত্যু কমেছে। 



বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মহাখালীর ব্র‍্যাক ইন সেন্টারে নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সহনশীলতা শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।


বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমাত্রিক স্বাস্থ্যগত প্রভাব শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন নলেজ হাবের প্রেসিডেন্ট খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।তিনি বলেন, বাংলাদেশে জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকির অর্থনৈতিক বোঝা বছরে প্রায় ২০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪ দশমিক ৬ শতাংশের সমান। এর বড় অংশের জন্য দায়ী অতিরিক্ত তাপ। তাপপ্রবাহের কারণে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়া, মৃত্যুঝুঁকি, ডেঙ্গু ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসমস্যা দেশের অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। অথচ জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন বরাদ্দের বিপরীতে প্রকৃত ব্যয়ও উদ্বেগজনকভাবে কম।



তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালে অতিরিক্ত তাপের কারণে দেশে প্রায় ২৯৩০ কোটি কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়েছে। এর অর্থনৈতিক মূল্য প্রায় ১৫ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। হারানো কর্মঘণ্টার প্রায় ৬৪ শতাংশই কৃষিখাতে। প্রতিবেদনে বায়ুদূষণও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে উঠে এসেছে। ২০২৪ সালে দেশে বার্ষিক গড় পিএম২.৫-এর মাত্রা ছিল প্রতি ঘনমিটারে ৭৮ মাইক্রোগ্রাম, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকার প্রায় ১৫ গুণ।এছাড়া ডেঙ্গুর ক্ষেত্রেও উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। দেশে ডেঙ্গুতে ২০২৩ সালে ১ হাজার ৭০৫ জন, ২০২৪ সালে ৫৭৫ জন এবং ২০২৫ সালে ৪১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গুরোগীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ঢাকার বাইরের হলেও মৃত্যুর ৫৭ থেকে ৬৪ শতাংশ ঘটে ঢাকা শহরের হাসপাতালগুলোতে।


প্রতিবেদনে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। যার মধ্যে রয়েছে তীব্র গরমে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জাতীয় পর্যায়ে হিট হেলথ অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়ন এবং বাইরে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য সুনির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সুরক্ষা নির্দেশনা চালু করা।ডেঙ্গুর আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করা, ঢাকার বাইরের হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আবহাওয়া ও স্বাস্থ্য তথ্যের সমন্বয়ের বিষয়গুলোও প্রতিবেদনে উঠে আসে। গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ডেঙ্গু জাতীয় রোগে পরিণত হয়েছে। উষ্ণ মাসে তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর ডেঙ্গুতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২১ থেকে ২৪ শতাংশ বাড়তে পারে।ডেঙ্গুর আগাম সতর্কতা পাওয়া সম্ভব জানিয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখা গেলে মৃত্যুর ঝুঁকি কমানো সম্ভব।









  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ