প্লাস্টিক দূষণ ঠেকাতে পুনর্ব্যবহারে বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

আবহাওয়া ও পরিবেশ

প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে উৎপাদকদের দায়িত্ব নিশ্চিত করা, পুনর্ব্যবহার (রিসাইক্লিং) খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের

2026-10-29T17:30:54+06:00
2026-10-29T17:30:54+06:00
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

প্লাস্টিক দূষণ ঠেকাতে পুনর্ব্যবহারে বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩০ পিএম   (ভিজিট : ০)

প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে উৎপাদকদের দায়িত্ব নিশ্চিত করা, পুনর্ব্যবহার (রিসাইক্লিং) খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলেন, অপরিকল্পিতভাবে ফেলা প্লাস্টিক বর্জ্য ড্রেন ও নালা-নর্দমা বন্ধ করে শহরে জলাবদ্ধতা তৈরি করছে। একই সঙ্গে তা নদী ও সামুদ্রিক পরিবেশকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। এ সংকট মোকাবিলায় নীতিমালার কার্যকর প্রয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানের দ্য ওয়েস্টিন ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। পরিবেশ অধিদপ্তর (ডিওই) ও জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো) যৌথভাবে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে। নরওয়ে সরকারের সহায়তায় পরিচালিত ‘ইন্টিগ্রেটেড অ্যাপ্রোচ টুওয়ার্ডস সাসটেইনেবল প্লাস্টিকস ইউজ অ্যান্ড মেরিন লিটার প্রিভেনশন ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের সমাপনী উপলক্ষে এ অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মোহাম্মদ নাভিদ সাফিউল্লাহ বলেন, কেবল বর্জ্য সংগ্রহ করলেই প্লাস্টিক দূষণের সমাধান হবে না। উৎপাদন থেকে পুনর্ব্যবহার পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। উৎপাদকদের দায়িত্ব (ইপিআর) নিশ্চিত করার পাশাপাশি উৎপাদন ও পুনর্ব্যবহারসংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ এবং পুনর্ব্যবহারকারীদের সঙ্গে প্রশাসনিক সমন্বয় বাড়ানো দরকার। তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য পৃথকীকরণ ও সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. নূরুন নাহার বলেন, উৎপাদকদের বর্ধিত দায়িত্ব (ইপিআর), পরিচ্ছন্ন উৎপাদন ও পরিবেশবান্ধব নকশা বাস্তবায়ন করা গেলে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং শিল্পখাতে দক্ষতা বাড়বে। এজন্য নিয়মিত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। তিনি জানান, প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ইউনিডো বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ আলমগীর হোসেন বলেন, নীতিমালা প্রণয়ন, পরিবেশবান্ধব শিল্প উৎপাদন ও পুনর্ব্যবহার খাতে প্রকল্পটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। অর্জিত সফলতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে সরকারের সঙ্গে আরও বড় পরিসরে কাজ করতে ইউনিডো আগ্রহী।

প্রকল্পের সারসংক্ষেপ তুলে ধরে ইউনিডোর ভিয়েনা কার্যালয়ের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ড. রানা প্রতাপ সিং জানান, প্রকল্পটি ২০২০ সালে শুরু হয়। রাজনৈতিক পরিবর্তন, বন্যা, তাপপ্রবাহ, হরতাল ও নির্বাচনের মতো নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে বাস্তবে মাত্র ৫২০ কর্মদিবসে ৩০০টির বেশি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্লাস্টিকের ব্যবহার রাতারাতি বন্ধ করা লক্ষ্য নয়; পরিবেশ ও অর্থনীতির ভারসাম্য রেখে টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করাই মূল উদ্দেশ্য। অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জানান, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্লাস্টিক খাতের অবদান প্রায় ১ শতাংশ এবং বর্জ্য খাতের অবদান ৭-৮ শতাংশ হলেও প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার খাতের অবদান ০.২৫ শতাংশের নিচে। নতুন প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে এ খাতে বড় প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রকল্পের অন্যতম অর্জন ইপিআর নির্দেশিকা প্রণয়ন ও গেজেট প্রকাশ। এছাড়া পুনর্ব্যবহারকারীদের ব্যবসা ডিজিটাল কাঠামোতে আনতে ‘প্লাস্টিক পাথ’ নামের একটি সফটওয়্যার তৈরি করে পরিবেশ অধিদপ্তরকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

স্বাগত বক্তব্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সিরাজগঞ্জ পৌরসভায় দেশের প্রথম ‘কমন ট্রিটমেন্ট ফ্যাসিলিটি’ স্থাপন করা হয়েছে। এটি সফলভাবে পরিচালিত হলে সারা দেশে এ ধরনের মডেল ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান বলেন, সিরাজগঞ্জে চিকিৎসাবর্জ্য ব্যবস্থাপনার সফল মডেল অন্য জেলাতেও অনুসরণ করা যেতে পারে। পাশাপাশি বর্জ্য পৃথকীকরণ ও পুনর্ব্যবহারে জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বড় সুযোগ রয়েছে।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ সোলায়মান হায়দার বলেন, প্রকল্প শেষ হলেও প্লাস্টিক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এসব কার্যক্রম পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে চলবে।

সমাপনী বক্তব্যে উপপ্রকল্প পরিচালক কাজী সুমন সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, শিল্প সমিতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে যৌথ সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ