প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৩ পিএম (ভিজিট : ০)

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্সে পাওয়া গেছে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে লেখা একটি চিঠি। এতে বিএনপির সদস্য ও কর্মী হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন নাম-পরিচয়হীন এক ব্যক্তি। চিঠির শেষে ইংরেজিতে লেখা রয়েছে, ‘I want the change to come through you.....’। বাংলায় যার অর্থ, ‘আমি চাই, পরিবর্তন আপনার হাত ধরেই আসুক।’
শনিবার সকালে মাজারের দানবাক্স ও ডেগে জমা হওয়া টাকা গণনার সময় চিঠিটি পাওয়া যায়। বেলা দুইটা পর্যন্ত অন্তত চারটি চিরকুট ও চিঠি পাওয়া গেছে। টাকা গণনা শেষ হলে আরও চিরকুট পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তারেক রহমানকে লেখা চিঠিতে বিএনপির সদস্য ও কর্মী হওয়ার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। লেখকের প্রস্তাব, বিএনপির সদস্য হতে হলে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে অথবা জিপিএ-৫-এর মধ্যে অন্তত ২ দশমিক ৫০ পেতে হবে। আর দলের কর্মী হতে হলে এইচএসসি পাসের পাশাপাশি জিপিএ-৫-এর মধ্যে অন্তত ৩ দশমিক ৫০ থাকতে হবে।
এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার আগে কাউকে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হতে না দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন চিঠির লেখক। তার মতে, দলে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
চিঠিতে নিজের নাম-ঠিকানা উল্লেখ করেননি লেখক। তবে তিনি জানিয়েছেন, ২০১১ সালে রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন। পরে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান। চিঠির শেষাংশে তারেক রহমানের মাধ্যমে পরিবর্তন আসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
শনিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং মাজার ব্যবস্থাপনায় গঠিত কমিটির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে দানবাক্স ও ডেগের টাকা গণনা শুরু হয়।
জেলা প্রশাসক জানান, আপাতত মাসে একবার দানবাক্সের টাকা গণনা করা হবে। পরে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রতিদিন গণনার কাজ সম্পন্ন করবেন।
গত ১৮ জুন মাজারের দানবাক্স সিলগালা করার পর ২২ জুন প্রথমবারের মতো তিনটি ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্সের টাকা গণনা করা হয়। চার দিনে পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। এরপর ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা, ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা এবং ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা পাওয়া যায়।
প্রতিবারই নগদ টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপা পাওয়া গেছে। প্রথম চার দফায় দানবাক্স ও ডেগ থেকে পাওয়া মোট ২ কোটি ২৯ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪০ টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়েছে। ওই অর্থ থেকে আনসার সদস্যদের বেতন দেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যবস্থাপকসহ কয়েকটি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে জেলা প্রশাসন। নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ হলে প্রতিদিন দানবাক্স ও ডেগে জমা হওয়া টাকা গণনার ব্যবস্থা করা হবে।