ব্রিজ থেকে পানিতে লাফ, বাড়িতে আশ্রয় নিয়েও বাঁচলেন না কাওসার
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪২ পিএম (ভিজিট : ৫)

প্রাণ বাঁচাতে ব্রিজ থেকে খালের পানিতে লাফ দিয়েছিলেন কাওসার হাওলাদার (৩৭)। পরে আশ্রয় নেন পাশের একটি বাড়িতে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ঘরের দরজা ভেঙে ঢুকে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের পশ্চিম সাতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কাওসার পেশায় ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলের চালক ছিলেন। তিনি স্থানীয় যুবদলের কর্মী ছিলেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় রাশেদ আমিন নামে যুবদলের আরেক কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উজিরপুর ও গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী পশ্চিম সাতলা এলাকার একটি ব্রিজের ওপর কাওসার হাওলাদার, রাশেদ আমিনসহ কয়েকজন যুবক দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় একটি মাইক্রোবাসে করে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত সেখানে এসে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে কাওসার ও রাশেদ ব্রিজের নিচে খালের পানিতে লাফ দেন। পরে তারা পাশের হাবিব হাওলাদারের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন। কিন্তু দুর্বৃত্তরা ওই বাড়িতে ঢুকে ঘরের দরজা ভেঙে কাওসারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়।
পরে তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় রাশেদ আমিন গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়দের ধারণা, পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে কাওসারকে হত্যা করা হয়েছে। তবে হামলার প্রকৃত কারণ এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে মনে করছে পুলিশ।
নিহত কাওসার হাওলাদার উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের আলামদী গ্রামের মোনাসেফ হাওলাদারের ছেলে। তিনি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকানির্বাহ করতেন। এ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই