আলোচিত মামলার দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নিল সরকার

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

আইন-আদালত

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাতখুন মামলা কিংবা পুরান ঢাকার দর্জি দোকানী বিশ্বজিৎ হত্যা মামলা- হাইকোর্টের রায়ের পর এ ধরণের আলোচিত

2026-10-23T10:03:53+06:00
2026-10-23T10:03:53+06:00
শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

আলোচিত মামলার দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নিল সরকার
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৩ এএম   (ভিজিট : ২৮)

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাতখুন মামলা কিংবা পুরান ঢাকার দর্জি দোকানী বিশ্বজিৎ হত্যা মামলা- হাইকোর্টের রায়ের পর এ ধরণের আলোচিত মামলাগুলো বছরের পর বছর ধরে আপিল বিভাগে বিচারাধীন ছিল। এত বছরেও আসামি পক্ষ কিংবা রাষ্ট্রপক্ষ এসব মামলার শুনানির উদ্যোগ নেয়নি।

কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এরকম আলোচিত চারটি মামলা দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেয় রাষ্ট্রপক্ষ। এরইমধ্যে আপিল বিভাগে এই চার মামলা উপস্থাপনের পর শুনানির জন্য তারিখও নির্ধারণ করেছেন সর্বোচ্চ আদালত।

মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে-নারায়ণগঞ্জের সাতখুন মামলা, বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা, মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলা এবং বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলা।

বহুল আলোচিত এসব মামলার দ্রুত শুনানির উদ্যোগ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, সমাজে ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণতার সময় এসব আলোচিত মামলাগুলো যদি দ্রুত নিষ্পত্তি করে  রায় কার্যকরের দিকে যাওয়া যায় তাহলে হয়তো এধরনের অপরাধ থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রকে বাঁচানো যেতে পারে।

তবে আইনজীবীরা বলছেন, এটা ভালো উদ্যোগ হলেও আপিল বিভাগে বিচারক নিয়োগ দিয়ে ২/৩টি বেঞ্চ গঠন করলে ভালো হতো। কারণ এ মামলাগুলোর শুনানি করতে গেলে অন্য মামলায় প্রভাব পড়তে পারে।

শুনানির জন্য এসব মামলার দিন ঠিক হওয়ার পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো.রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন,অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের পক্ষ থেকে এই সমস্ত আলোচিত মামলা, যেগুলো আমাদের সমাজকে আলোড়িত করেছে, সাধারণ মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছে সেগুলোর যেন দ্রুত নিষ্পত্তি হয় সেজন্য আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। প্রাথমিক পর্যায়ে নারায়ণগঞ্জের সাতখুন মামলা, বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাদ হত্যা মামলা, মেজর সিনহা হত্যা মামলা এবং বিশ্বজিৎ হত্যা মামলা- এই চার মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে কাজ চলছে। এসব মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে যে আপিল করেছেন সে আপিলগুলোর শুনানির জন্য আমরা আদালতের কাছে আবেদন করেছি।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আদালতের অনেক ব্যস্ততা এবং আনুষাঙ্গিক অনেক বিষয় থাকার পরও আমাদের  প্রত্যাশা হচ্ছে,  এই মামলাগুলো নির্ধারিত তারিখে যেন শুনানি শুরু হয়। হাইকোর্টের আলোচিত মামলাগুলো নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে যেমনটি করেছি এই সমস্ত মামলাগুলোও ক্ষেত্রেও একইভাবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শুনানি করার জন্য আমরা সুনির্দিষ্ট  ল’ অফিসারদেরকে এসাইনমেন্ট দিব। যারা এগুলোর জন্য প্রস্তুতি নিবে। সুতরাং  যে তারিখ নির্ধারিত হয়েছে তার আগেই মামলার প্রস্তুতি আমরা সম্পন্ন করব।

আমরা তো রাষ্ট্রের পক্ষে জনগণের জন্য কাজ করি। এত বড় একটা আলোচিত ঘটনা বাংলাদেশের মানুষ তো চায় যে এই সমস্ত ঘটনার যদি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় অর্থ্যাৎ রায় হয়, এবং তা কার্যকর হয় তাহলে, এ ধরনের অপরাধ থেকে সমাজ মুক্ত থাকবে। রাষ্ট্রের পক্ষের আইন কর্মকর্তা হিসেবে আমাদের দায়িত্ব এ সমস্ত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে উদ্যোগ গ্রহণ করা কারণ আমরাও তো এই সমাজের মানুষ আমরাও তো এই মাটির সন্তান। এর ফলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে বলেও উল্লেখ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

এ বিষয়ে ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির বলেন, নি:সন্দেহে এটা ভালো উদ্যোগ, কিন্তু আপিল বিভাগে বেঞ্চ মাত্র একটি এখানে তো আরও মামলা আছে। সুতরাং দ্রুত বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে একাধিক বেঞ্চ গঠন করলে মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও পূরণ হবে।

সাত খুন মামলা

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ ৭ জনকে অপহরণের তিনদিন পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ওই ঘটনায় নিহত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২নং ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিম।

সাত খুনের ঘটনায় প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও তার ৪ সহকর্মী হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় একটি এবং আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়ির চালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে একই থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

দু’টি মামলার বিচারিক কার্যক্রম একসঙ্গে শেষ করে ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নূর হোসেন ও র্যাবের বরখাস্তকৃত তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালত। ৩৫ জন আসামির বাকি ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল করেন। পাশাপাশি ডেথ রেফারেন্স(মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য নথি) হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

এরপর হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখা থেকে মামলার সব নথি বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। বিজি প্রেস পেপারবুক প্রস্তুত করে একই বছরের ০৭ মে হাইকোর্টে পাঠায়।

একই বছরের ২২ মে থেকে আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শুরু হয়। ৩৩ কার্যদিবসে উভয়পক্ষের শুনানি হয়।

২০১৭ সালের ২২ আগস্ট হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে বিচারিক আদালতের  মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ২৬ আসামির মধ্যে ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল এবং বাকি ১১ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ মামলার মোট ৩৫ আসামির মধ্যে বাকি ৯ জনের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ডও বহাল রাখেন হাইকোর্ট। 

মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা  আসামিরা হচ্ছেন- নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন এবং র্যাব-১১’র চাকরিচ্যুত তিন কর্মকর্তা সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মুহাম্মদ, মেজর (অব.) আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার (অব.) মাসুদ রানা।

অন্য যে ১১ জনের ফাঁসির আদেশ বহাল রয়েছে, তারা হলেন- ৠাবের চাকরিচ্যুত সাবেক হাবিলদার মো. এমদাদুল হক, ল্যান্সনায়েক হীরা মিয়া, আরওজি-১ এ বি মো. আরিফ হোসেন, ল্যান্সনায়েক বেলাল হোসেন, সিপাহী আবু তৈয়্যব আলী,  কনস্টেবল শিহাব উদ্দিন, এসআই পূর্ণেন্দু বালা, সৈনিক আবদুল আলীম, সৈনিক মহিউদ্দিন মুন্সী, সৈনিক আলামিন শরীফ ও সৈনিক তাজুল ইসলাম।

অন্যদিকে সাজা কমে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১১ আসামি হচ্ছেন- ৠাবের চাকরিচ্যুত সাবেক সিপাহী আসাদুজ্জামান নূর ও সার্জেন্ট এনামুল কবির এবং নূর হোসেনের ৯ সহযোগী মূর্তজা জামান চার্চিল, আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান দিপু, আবুল বাশার, রহম আলী, জামাল উদ্দিন সরদার, ভারতে গ্রেফতারকৃত সেলিম, সানাউল্লাহ সানা ও শাহজাহান।

বিচারিক আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড পাওয়া ৯ জনও র্যাবের বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা ও সদস্য। তাদের মধ্যে কনস্টেবল হাবিবুর রহমানের ১৭ বছর, এএসআই আবুল কালাম আজাদ, এএসআই কামাল হোসেন, কনস্টেবল বাবুল হাসান, কর্পোরাল মোখলেসুর রহমান, ল্যান্স কর্পোরাল রুহুল আমিন ও সিপাহী নুরুজ্জামানের ১০ বছর করে এবং এএসআই বজলুর রহমান ও হাবিলদার নাসির উদ্দিন ৭ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন উচ্চ আদালত। পরে আসামিরা আপিল করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে এ মামলার আপিল শুনানির জন্য ১৭ নভেম্বর দিন রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

আবরার ফাহাদ হত্যা

অসম চুক্তি এবং পানি আগ্রাসন নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাসের জেরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট)  শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ও তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর দিনগত রাতে ছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষে নিয়ে নৃশংস কায়দায় পিটিয়ে হত্যা করে সংগঠনটির ক্যাডাররা।

এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে পরের দিন ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ। মাত্র ৩৭ দিনে তদন্ত শেষ করে একই বছরের ১৩ নভেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মো. ওয়াহিদুজ্জামান।

২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান ওই রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মেহেদী হাসান রাসেল, মো. অনিক সরকার ওরফে অপু, মেহেদী হাসান রবিন ওরফে শান্ত, ইফতি মোশাররফ সকাল, মো. মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মো. মাজেদুর রহমান মাজেদ, মো. মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ, খন্দকার তাবাকারুল ইসলাম ওরফে তানভির, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মো. শামীম বিল্লাহ, মো. সাদাত এ এস এম নাজমুস সাদাত, মুনতাসির আল জেমী, মো. মিজানুর রহমান মিজান, এস এম মাহমুদ সেতু, সামসুল আরেফিন রাফাত, মো. মোর্শেদ ওরফে মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম, এহতেশামুল রাব্বি অরফে তানিম, মোহাম্মদ মোর্শেদ উজ্জামান মণ্ডল প্রকাশ জিসান, মুজতবা রাফিদ। 

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- অমিত সাহা, ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না, মো. আকাশ হোসেন, মুহতাসিম ফুয়াদ ও মো. মোয়াজ ওরফে মোয়াজ আবু হোরায়রা।

২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি এ মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে এসে পৌঁছায়। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় কার্যক্রম উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। পরে কারাবন্দি আসামিরা জেল আপিল করেন। পাশাপাশি অনেকে ফৌজদারি আপিলও করেন।

শুনানি শেষে এ বছরের ১৬ মার্চ ওই মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ। এরপর আসামিরা আপিল বিভাগে আপিল করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে এ মামলার আপিল শুনানির জন্য ২৪ নভেম্বর দিন রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

মেজর সিনহা

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।  এই ঘটনায় করা মামলার বিচার শেষে ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত দুজনকে মৃত্যুদণ্ড, ছয়জনকে যাবজ্জীবন ও সাতজনকে খালাস দিয়ে রায় দিয়েছিলেন। 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের তৎকালীন পরিদর্শক বরখাস্ত লিয়াকত আলী ও টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। 

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের বরখাস্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) নন্দ দুলাল রক্ষিত, সাগর দেব, রুবেল শর্মা, টেকনাফ থানায় পুলিশের করা মামলার সাক্ষী টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরের মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, মো. নেজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন। 

পরে নিয়ম অনুসারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক লিয়াকত আলীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য (ডেথ রেফারেন্স) মামলার যাবতীয় কার্যক্রম হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি দণ্ডিত আসামিরা আপিল ও জেল আপিল করেন।

দণ্ডের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সর শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ২ জুন বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রদীপসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড ও অপর ছয় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখেছেন আদালত। এর বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল বিভাগে আপিল করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে এ মামলার আপিল শুনানির জন্য ১ ডিসেম্বর দিন রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

বিশ্বজিৎ দাস হত্যা

২০১২ সালের ০৯ ডিসেম্বর বিএনপি-জামায়াতের অবরোধ কর্মসূচির মধ্যে বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে বিশ্বজিৎকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর এ হত্যা মামলার রায়ে ২১ আসামির  মধ্যে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রফিকুল ইসলাম শাকিল, রাজন তালুকদার (পলাতক), মাহফুজুর রহমান নাহিদ, ইমদাদুল হক এমদাদ, জিএম রাশেদুজ্জামান শাওন, মীর মোহাম্মদ নূরে আলম লিমন (পলাতক), সাইফুল ইসলাম সাইফুল ও কাইয়ূম মিয়া টিপু।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১৩ আসামি হলেন- খন্দকার মো. ইউনুস আলী ইউনুস, তারিক বিন জহুর তমাল (পলাতক), গোলাম মোস্তফা মোস্তফা, মো. আলাউদ্দিন , মো. ওবায়দুল কাদের তাহসিন (পলাতক), ইমরান হোসেন ইমরান (পলাতক), আজিজুর রহমান আজিজ (পলাতক), আল আমিন শেখ (পলাতক), রফিকুল ইসলাম (পলাতক), এএইচএম কিবরিয়া, মনিরুল হক পাভেল (পলাতক), মোহম্মদ কামরুল হাসান (পলাতক) ও মোশাররফ হোসেন মোশারফ (পলাতক)।

ওই রায়ের এক সপ্তাহের মধ্যে এ মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পৌঁছে। এরপর শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আট আসামির মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, চারজনের মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন এবং অপর দুজনকে খালাস দেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ১৩ আসামির মধ্যে যে দুজন আপিল করেন, তারা খালাস পেয়েছিলেন।

নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া খালাসপ্রাপ্ত দুজন হলেন সাইফুল ইসলাম ও কাইয়ুম মিয়া। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আট আসামির মধ্যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া চার আসামি হলেন মাহফুজুর রহমান ওরফে নাহিদ, রাশেদুজ্জামান ওরফে শাওন, ইমদাদুল হক ও নূরে আলম (পলাতক) ওরফে লিমন। এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন রফিকুল ইসলাম ওরফে শাকিল ও রাজন তালুকদার (পলাতক)। নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন দণ্ডিত ১৩ আসামির মধ্যে দুজন খালাস পেয়েছেন। তারা হলেন এইচ এম কিবরিয়া ও গোলাম মোস্তফা। রায়ের সময় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া অপর ১১ আসামি পলাতক থাকায় তাদের ব্যাপারে আদালত কোনো মন্তব্য করেননি।

আসামিদের সবাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। এরপর দণ্ডিতরা আপিল বিভাগে আপিল করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে এ মামলার আপিল শুনানির জন্য ১ ডিসেম্বর দিন রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ