কেরানীগঞ্জে শিশুকে যৌন হয়রানি : আসামির ১০ বছরের কারাদণ্ড
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০২ পিএম (ভিজিট : ৮)

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ছয় বছরের এক শিশুকে চকোলেটের লোভ দেখিয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে করা মামলায় আসামি মো. কামরুলের ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এই রায় ঘোষণা করেন। এ ছাড়া আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এছাড়া রায়ে আসামির স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভূক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার জন্য ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৮ সালের ১৫ মার্চ ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে নানাবাড়িতে বেড়াতে আসে ভুক্তভোগী শিশু।
ওই দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সে বাড়ির সামনে খেলাধুলা করছিল। এ সময় অভিযুক্ত মো. কামরুল মজা খাওয়ার জন্য টাকা দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে নিজের ঘরে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে ১০ টাকা দিয়ে আরো ভালো খাবার দেওয়ার প্রলোভন দেখান তিনি। পরে অভিযুক্ত কামরুল ওই শিশুর সঙ্গে যৌন হয়রানি করেন।
অভিযোগে আরো বলা হয়, শিশুটি ভয় পেয়ে চিৎকার করলে তার মা ও নানা-নানি অভিযুক্তের ঘরে গিয়ে দরজা খুলতে বলেন। পরে ঘরের টিনের বেড়া ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে শিশুটিকে উদ্ধার করেন তারা। শিশুটির কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ শুনে স্থানীয় লোকজনকে জানালে তারা অভিযুক্তকে আটক করে মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
ওই ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ১ মে কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মো. মোজাম্মেল হক কামরুলকে একমাত্র আসামি করে চার্জশিট দাখিল করেন।
২০১৯ সালে ২৫ ফেব্রুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলাটির বিচারকালে ১০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।