প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৯ পিএম আপডেট: ১২.১০.২০২৬ ৬:১৫ পিএম (ভিজিট : ১০)

দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে ৩০৩ জন শিশু অবস্থান করছে। শিশু আইন অনুযায়ী তারা সুবিধাবঞ্চিত শিশু হিসেবে বিবেচিত। এসব শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ, নিরাপত্তা ও শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে বিকল্প পারিবারিক যত্ন, নিরাপদ আবাসন ও শিক্ষার ব্যবস্থা করার সুপারিশ করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।
হাইকোর্টে দাখিল করা প্রতিবেদনে অধিদপ্তর বলেছে, কারাগারের পরিবেশ দীর্ঘমেয়াদে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অনুকূল নয়। অধিদপ্তরের শিশু সুরক্ষা ইউনিট ও প্রবেশন শাখার সমন্বিত মতামতের ভিত্তিতে তৈরি এ প্রতিবেদনে কারাগারে থাকা শিশুদের সুরক্ষার আইনি ভিত্তি, বিদ্যমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটি পাঠিয়েছেন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ)।
হাইকোর্টের নির্দেশে প্রতিবেদন দাখিল
দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে কত শিশু রয়েছে, তাদের তালিকা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য জানতে চেয়ে করা একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ জুন তালিকা দাখিলের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। আদালত দুই মাসের মধ্যে তালিকা দাখিল করতে বলেছিলেন। বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশের পাশাপাশি রুল জারি করেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ দীপা।
আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সমাজসেবা অধিদপ্তর শিশুদের সংখ্যা, চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনটি শুনানির জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলে জাগো নিউজকে জানিয়েছেন দীপা।
আইনে সুবিধাবঞ্চিত শিশু হিসেবে স্বীকৃতি
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশু আইন, ২০১৩-এর মূল দর্শন শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষা করা। আইনের ৮৯(১)(৬) ধারা অনুযায়ী, কারাভোগরত মা-বাবার ওপর নির্ভরশীল শিশু অথবা কারাভোগরত মায়ের সঙ্গে কারাগারে থাকা শিশু সুবিধাবঞ্চিত হিসেবে গণ্য। ফলে এসব শিশুর জন্য বিশেষ সুরক্ষা, যত্ন-পরিচর্যা ও উন্নয়নমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আইনগত ভিত্তি রয়েছে।
কোনো শিশু অবহেলা বা অরক্ষিত পরিস্থিতির শিকার হলে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক বিকল্প পরিচর্যার ব্যবস্থা নেওয়াও সমাজসেবা অধিদপ্তরের দায়িত্ব বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুদানে চলছে শিশুদের সহায়তা কার্যক্রম
মাঠপর্যায়ের সর্বশেষ তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে প্রায় ২৯৮ থেকে ৩০৩ জন শিশু রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘প্রবেশন অ্যান্ড আফটার কেয়ার সার্ভিসেস’ কার্যক্রম ৬৪টি জেলা ও আটটি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতসহ মোট ৭২টি ইউনিটে চলছে। এর আওতায় নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতি’ কারাগারে থাকা শিশুদের সহায়তা করছে। প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে সমিতিটির মাধ্যমে শিশুদের প্রাথমিক বিকাশ ও সুরক্ষায় নিয়মিত খেলনা, পোশাক ও পুষ্টিকর শিশু খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের অনুদান এবং সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তিদের সহায়তায় এসব কার্যক্রম চলছে।
তবে শিশু সুরক্ষা ইউনিটের অধীনে কারাগারে থাকা শিশুদের জন্য আলাদা কোনো কর্মসূচি নেই। প্রবেশন শাখার মাধ্যমে তাদের মৌলিক সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
নিকটাত্মীয়ের কাছে পুনর্বাসনের সুপারিশ
সমাজসেবা অধিদপ্তরের সুপারিশ অনুযায়ী, শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় নির্দিষ্ট বয়স বা সময়সীমা শেষে তাকে নিকটাত্মীয়ের কাছে বিকল্প পারিবারিক যত্নে পুনর্বাসন করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে শিশুর নিরাপত্তা, পরিচর্যা ও স্বাভাবিক বিকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
নিকটাত্মীয়ের কাছে থাকার সুযোগ না থাকলে কিংবা সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে শিশুকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন সরকারি শিশু পরিবার বা উপযুক্ত নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রে রাখা যেতে পারে। সেখানে তার যথাযথ লালন-পালন, শিক্ষা ও বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, কারাগারে থাকা শিশুদের সর্বোত্তম স্বার্থ, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও স্বাভাবিক বিকাশকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও মানবিক ব্যবস্থা নিতে তারা বদ্ধপরিকর।