জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের সব মানুষের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব, আর বর্তমান সরকার সেই লক্ষ্যেই সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর ইস্কাটনে বাংলাদেশ সমাজকল্যাণ পরিষদ ভবনে নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট (এনডিডি সুরক্ষা ট্রাস্ট) আয়োজিত বিশ্ব সেরিব্রাল পালসি দিবস ২০২৬ উদযাপন ও অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
বক্তব্যে মন্ত্রী বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবক ও পরিচর্যাকারীদের মানসিক ও শারীরিক সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর সার্বক্ষণিক পরিচর্যা করতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে মায়েদের দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়। এই বিপুল সংখ্যক অভিভাবক ও পরিচর্যাকারীকে সহায়তা দেওয়াও রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে দৃশ্যমান ও টেকসই পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
নগর ও অবকাঠামো পরিকল্পনায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বড় ভবন ও বিপণিবিতান নির্মাণের সময় র্যাম্প সংযোজন এবং গণপরিবহণে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে গণপরিবহণের চালক ও সহকারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করতে এবং সাধারণ নাগরিকদের পারস্পরিক সহমর্মিতা দেখাতে আহ্বান জানান তিনি।
গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সমাজের বিভিন্ন সংকট ও বাস্তবতা নিয়ে মানুষ প্রকাশ্যে আলোচনা করতে দ্বিধাবোধ করে। এসব বিষয় ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরে জনসচেতনতা তৈরিতে মূলধারার গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ৫০ শিশুর মধ্যে বিশেষ অনুদানের চেক বিতরণ করেন। সবশেষে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়, যা উপস্থিত অতিথি ও দর্শকদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব মো. কামরুজ্জামান দুলাল। স্বাগত বক্তব্য দেন এনডিডি সুরক্ষা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীমা ফেরদৌস। বিশ্ব সেরিব্রাল পালসি দিবসে এনডিডি সুরক্ষা ও প্রতিকার বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পেডিয়াট্রিক নিউরোলজি বিভাগের বিভাগীয় চেয়ারম্যান (অব.) অধ্যাপক ডা. মো. মিজানুর রহমান এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের শিশু স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাওলি সরকার।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু, তাদের অভিভাবক, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সমাজকল্যাণ সংগঠনের প্রতিনিধিরা।