প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৪ পিএম আপডেট: ১২.১০.২০২৬ ৫:৩৬ পিএম (ভিজিট : ৬)

দেশের বড় বড় রাজনৈতিক দলের নেতা মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর জন্য তদবির করছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, ‘এখন দেশে যেসব বড় রাজনৈতিক দল আছে, যাদের বড় বড় নেতারা দিনে-রাতে আর্জি করছেন যে, মেয়েদের বিয়ের বয়সসীমা কত অল্প বয়সে নামিয়ে দেওয়া যায়। এ জায়গা থেকে আমি বলি, একটা জ্ঞানভিত্তিক জায়গা থেকে তাদের চাওয়াটা যেন প্রকাশ করতে পারে সেটাও সরকারের দায়িত্ব। একই সঙ্গে আমি মনে করি আজ আমাদের ডেভেলপমেন্ট পার্টনার (উন্নয়ন সহযোগী), মিডিয়া কর্মীসহ যারা উপস্থিত আছেন, তাদেরও দায়িত্ব, জনগণকে সঠিক তথ্য দেওয়া, সঠিকভাবে জানা।’
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা) ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত ‘হার স্কিলস, হার ফিউচার’ প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিয়ের বয়স নিয়ে ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ তুলে গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কিছুদিন আগে কোনো একটা প্রোগ্রামে আমি বলছিলাম জাস্ট আজ থেকে ৪ হাজার বছর আগের লিখিত ইতিহাস থেকে আমরা জানি ইজিপ্টে ম্যারেজ এজ (বিয়ের বয়স) ২০ প্লাস। আজ থেকে ২ হাজার ৫০০ বছর আগে গ্রিসে অ্যাভারেজ ম্যারেজ এজ ছিল ৩০ বছরের মধ্যে। আজ ২০২৬ সালে এসে রোবটিক্স রুলসের যুগে তখন আমাদের দেশের রাজনৈতিক আলোচনা হলো যে বিয়ের বয়স কত কমিয়ে নিয়ে আসা যায়।’
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ‘নারীর টেকসই ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে শুধু পেশাগত প্রশিক্ষণ বা কর্মসংস্থানের সুযোগ যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস, যোগাযোগদক্ষতা, অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা এবং পারিবারিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি।’
বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে পরিবারের নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ, সামাজিক চাপ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বিবেচনায় নিয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। মেয়েদের শিক্ষা, দক্ষতা অর্জন ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ বাড়ানো গেলে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে আরও সক্ষম হবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা কিশোরী ও তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়নের কর্মসূচিতে পরিবারকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়নে আইনগত সুরক্ষা ও সচেতনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিও গুরুত্বপূর্ণ।’
ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব এডুকেশন দীপা শঙ্করের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ এবং কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম। এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।