‘অসংক্রামক রোগ ঠেকাতে তামাক নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই’: ভূমি প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয়

বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি মন্ত্রণালয় ও

2026-10-12T14:29:07+06:00
2026-10-12T14:29:07+06:00
সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

‘অসংক্রামক রোগ ঠেকাতে তামাক নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই’: ভূমি প্রতিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৯ পিএম   (ভিজিট : ১৬)

বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন।

তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে নিকোটিন আসক্তির ঝুঁকি থেকে রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তামাক ব্যবহার কমানো, তরুণদের সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ও নীতিগত উদ্যোগের পক্ষে তিনি সমর্থন জানান।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ঢাকা আহছানিয়া মিশন আয়োজিত ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬ ও পরবর্তী করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (জিএটিএস) ও তামাকের অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ক বিদ্যমান গবেষণা অনুযায়ী দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাকজাত পণ্য ব্যবহার করেন। তামাকজনিত রোগে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ মানুষ অকালে মারা যান, যা দৈনিক গড়ে প্রায় ৫৪৬ জন। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় বৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতা হ্রাসসহ তামাকের কারণে দেশের বার্ষিক অর্থনৈতিক ক্ষতি প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা।

বক্তারা আরও বলেন, তামাকের ক্ষতি শুধু জনস্বাস্থ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তামাক চাষের ফলে বন উজাড়, মাটির উর্বরতা হ্রাস ও অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারে পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

সভায় সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬-এ ই-সিগারেট ও অন্যান্য নতুন নিকোটিনজাত পণ্য অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো বিভিন্ন বিপণন কৌশলে তরুণদের লক্ষ্য করে এসব পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করছে, যা নতুন প্রজন্মের মধ্যে নিকোটিন আসক্তির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

বিশ্বের ৪০টি দেশ ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করেছে উল্লেখ করে বক্তারা বাংলাদেশেও ই-সিগারেটসহ নতুন নিকোটিনজাত পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, বিপণন ও বিক্রয় নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। এসব পণ্যের প্রচার ও সহজলভ্যতা বন্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬ দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়নেরও আহ্বান জানান তাঁরা।

ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের মহাপরিচালক আখতার-উজ-জামান। স্বাগত বক্তব্য দেন মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের উপপরিচালক মোখলেছুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মিশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সুপারমার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন, বাংলাদেশ সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মোকাদ্দেম হোসেন এবং বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান টিপু। এ ছাড়া ঢাকা আহছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরামের সদস্যরাও অংশ নেন।








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ