চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নারী গ্রেপ্তার
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৪ পিএম (ভিজিট : ৭)

সংগৃহীত ছবি
নেদারল্যান্ডসের একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট নকল করে অনলাইনে পার্টটাইম চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ২৪ লাখ ১৯ হাজার ১৯৯ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের এক নারী সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেপ্তার নারীর নাম প্রীয়ন্তী সরকার চিত্রা (২২)। গত ৮ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ এসব তথ্য জানান।
মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে মো. ছুফি উল্লাহ জানান, ভুক্তভোগী একজন ব্যবসায়ী। ২০২৫ সালের আগস্টে টেলিগ্রাম আইডি থেকে তাকে অনলাইনে পার্টটাইম চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। নেদারল্যান্ডসের একটি প্রতিষ্ঠানের আদলে তৈরি নকল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে একটি ভ্রমণবিষয়ক প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের ইতিবাচক রেটিং ও মতামত দেওয়ার বিনিময়ে দৈনিক ৮০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা আয়ের প্রলোভন দেখানো হয়। প্রস্তাবে আকৃষ্ট হয়ে কাজ শুরু করলে তাকে কয়েক দফায় পারিশ্রমিকও দেওয়া হয়। পরে ভুক্তভোগীকে টেলিগ্রামের একটি গ্রুপে যুক্ত করা হয়। সেখানে প্রতিষ্ঠানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ১ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগে আকর্ষণীয় মুনাফার প্রস্তাব দেওয়া হয়। অন্য সদস্যদের বিনিয়োগের প্রমাণ হিসেবে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার স্লিপের ছবি দেখানো হলে ভুক্তভোগীও বিনিয়োগে আগ্রহী হন।
তিনি জানান, ২০২৫ সালের ২২ আগস্ট ভুক্তভোগী তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব থেকে প্রথমে প্রতারক চক্রের দেওয়া একটি ব্যাংক হিসাবে ১ লাখ টাকা পাঠান। পরে ওয়েবসাইটে নির্দিষ্টসংখ্যক ভিজিট সম্পন্ন করা, বিভিন্ন ধাপে অংশ নেওয়া এবং অন্যান্য শর্ত পূরণের কথা বলে তাকে আরও টাকা পাঠাতে প্ররোচিত করা হয়। এভাবে একই দিনে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে তার কাছ থেকে মোট ২৪ লাখ ১৯ হাজার ১৯৯ টাকা নেওয়া হয়। তবে প্রতিশ্রুত মুনাফা কিংবা মূলধন কোনোটিই ফেরত দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও জানান, পরবর্তী সময়ে চক্রটি আরও টাকা দাবি করলে ভুক্তভোগীর সন্দেহ হয়। তিনি বিনিয়োগের অর্থ ফেরত চাইলে নতুন করে টাকা পাঠানোর কথা বলা হয়। একপর্যায়ে চক্রটির সদস্যরা যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে এ ঘটনায় আদালতের মাধ্যমে পল্টন থানায় ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর মামলা করেন ভুক্তভোগী।
সিআইডির তদন্তে ‘লিজা’ নাম ব্যবহারকারী এক সন্দেহভাজনের নির্দেশনার সঙ্গে টাকা পাঠানোর সময়ের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। এ ছাড়া গ্রেপ্তার প্রীয়ন্তী সরকার চিত্রার নামে নিবন্ধিত মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাব থেকে ভুক্তভোগীকে পারিশ্রমিক পাঠানো হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই অর্থ পাঠানোর নির্দেশদাতা সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি প্রীয়ন্তী সরকার চিত্রা। প্রতারণার ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা এবং অর্থের উৎস ও গন্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে তদন্ত চলছে বলে জানায় সিআইডি।
সিআইডি আরও জানায়, একই মামলায় প্রীয়ন্তী ছাড়া বিভিন্ন সময়ে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।