প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৭ পিএম (ভিজিট : ৫)

সংগৃহীত ছবি
বিদেশে চাকরি ও ওয়ার্কিং ভিসা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের পাসপোর্ট ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ১২ জনকে আটকের পর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছে এসআরবি-৪ পরিচালিত মোবাইল কোর্ট।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিকেটিটিসি) এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অভিযানের সময় আটকদের কয়েকজন ‘জিয়ার সৈনিক’ বলে স্লোগান দেন এবং বিকেটিটিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচয় রয়েছে বলে দাবি করেন। তবে এসআরবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এসব পরিচয় দিয়ে এসআরবির কাছে কোনো লাভ হবে না। অপরাধ করলে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে।
আটক ১২ জনের মধ্যে সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং পাঁচজনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে সবুজ ও শামীমকে তিন মাস করে, সুজনকে এক মাস, শাহিনকে ২১ দিন, আবুল বাসারকে ১৫ দিন এবং হারুন ও সুরুজ মিয়াকে সাত দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অর্থদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে দুর্জয়কে ১০ হাজার টাকা, রেজাউল করিমকে পাঁচ হাজার টাকা, কাইয়ুমকে চার হাজার টাকা, রিয়াজকে দুই হাজার টাকা এবং কামরুন নাহারকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
একই দিন দুপুরে অভিযান শেষে ব্রিফিংয়ে এসআরবি-৪ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, বিকেটিটিসি এবং বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট দালাল চক্রের কার্যক্রমের ওপর ছায়াতদন্ত চালানো হয়। তদন্তে জানা যায়, চক্রটির সদস্যরা বিদেশে চাকরি ও কর্মসংস্থানের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা আদায় করতেন।
অধিনায়ক বলেন, চক্রের সদস্যরা ৪০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রার্থীদের বিদেশে পাঠানো এবং লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করানোর নিশ্চয়তা দিতেন। পরে বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ আদায় করে তা আত্মসাৎ করা হতো।
বিকেটিটিসি বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে প্রশিক্ষণ দেয়। তবে প্রতিষ্ঠানটি নিজে বিদেশে কর্মী পাঠায় না বা চাকরির ব্যবস্থা করে না। অন্যদিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন বোয়েসেল বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশে কর্মী নিয়োগ করে। বোয়েসেলের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি নেওয়া হয় না। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতারক চক্রটি বিদেশে যেতে ইচ্ছুকদের সঙ্গে প্রতারণা করছিল।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান আরও বলেন, জর্ডানে সরকারিভাবে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া প্রায় সম্পূর্ণ বিনা খরচে পরিচালিত হয়। এ ক্ষেত্রে কর্মীদের বিমানভাড়া, ভিসা ফি কিংবা নিয়োগসংশ্লিষ্ট খরচ বহন করতে হয় না। তবে ব্যক্তিগত কিছু খরচ থাকতে পারে। এই সরকারি ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে দালাল চক্র সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
এ ধরনের প্রতারণায় কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এসআরবি-৪ এর অধিনায়ক।
তিনি বলেন, আটকদের কেউ কেউ রাজনৈতিক পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতির কথা বলে নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করেছেন। তবে এসবকে গুরুত্ব না দিয়ে অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।