সভাপতির পদত্যাগ দাবিতে মিছিল, উত্তপ্ত গুনভরি স্কুল

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

সারাদেশ

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার গুনভরি দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হকের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।

2026-09-30T20:52:59+06:00
2026-09-30T21:03:30+06:00
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

সভাপতির পদত্যাগ দাবিতে মিছিল, উত্তপ্ত গুনভরি স্কুল
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫২ পিএম  আপডেট: ৩০.০৯.২০২৬ ৯:০৩ পিএম  (ভিজিট : ৪৪)
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার গুনভরি দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হকের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে বিদ্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ করেছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী। এ সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রায় দুই ঘণ্টা বিদ্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিকেল চারটার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর একটার দিকে একদল শিক্ষার্থী সভাপতির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তাঁর বাড়িতে যায়। মোজাম্মেল হকের অভিযোগ, সেখানে ইটপাটকেল ছুড়ে তাঁর বাড়ির দরজা-জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়েছে।

খবর পেয়ে অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয় চত্বরে জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

বিকেল চারটার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান ও ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসরাকুল ইসলাম বিদ্যালয়ে যান। তাঁরা শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে প্রায় দুই ঘণ্টা পর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় থেকে বের হতে পারেন।

স্থানীয় অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদান নিশ্চিত করতে সম্প্রতি শিক্ষকদের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেন সভাপতি মোজাম্মেল হক। এতে শিক্ষার্থীদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। এর জেরেই সভাপতির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয় বলে জানা গেছে।

তবে কয়েকজন অভিভাবক সভাপতির উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, সভাপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর পাঠদানে নজরদারি বেড়েছে। তাঁর উদ্যোগে এখন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পড়াশোনায় মনোযোগ বেড়েছে।

অভিভাবকেরা বলেন, আগে টিফিনের সময় কিছু শিক্ষার্থী বাড়ি চলে যেত। বর্তমানে ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদানে কড়াকড়ি থাকায় বিদ্যালয়ের পরিবেশে পরিবর্তন এসেছে।

মোজাম্মেল হক দাবি করেন, বিদ্যালয়ে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ব্যাংক হিসাব ও লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হলেও প্রধান শিক্ষক তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মোজাম্মেল হকের আরও অভিযোগ, বিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের ল্যাপটপ ও কম্পিউটার কাগজপত্রে থাকলেও বাস্তবে সবগুলো নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা কম্পিউটার শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

কয়েকজন অভিভাবক প্রধান শিক্ষক মতলুবুর রহমান বুলু ও আইসিটি শিক্ষিকা ফেরদৌসী বেগমের আচরণ এবং পাঠদানের পরিবেশ নিয়েও অভিযোগ করেন। তাঁরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

শিক্ষার্থীদের দিয়ে মিছিল করানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, গত মঙ্গলবার সভাপতি সাংবাদিক সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে এসে তাঁদের শিক্ষকদের অপমান করেছেন। এর প্রতিবাদেই তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। তাঁদের দাবি, সভাপতির বাড়িতে কোনো ভাঙচুর করা হয়নি।

আইসিটি শিক্ষিকা ফেরদৌসী বেগম তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আইসিটি ক্লাস নিয়মিত হয় এবং প্রয়োজনীয় সব উপকরণ যথাযথ আছে। ঘটনাস্থলে না থাকায় প্রধান শিক্ষক মতলুবুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শিক্ষার্থীর অভিভাবক সজল মিয়া বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে আলোচনার মাধ্যমে তার সমাধান করা উচিত। শিক্ষার্থীদের কোনো বাড়িতে হামলা বা ভাঙচুরে জড়ানোও ঠিক নয়।

ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ