চট্টগ্রাম বন্দরে ৮.২৫ টন তামাকসদৃশ পণ্য ও ৯.২৬ টন স্ক্র্যাপ পেপার জব্দ

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

সারাদেশ

চট্টগ্রাম বন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আনা প্রায় ১৭ দশমিক ৫১ টন পণ্য জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর

2026-09-28T12:13:19+06:00
2026-09-28T12:13:19+06:00
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

চট্টগ্রাম বন্দরে ৮.২৫ টন তামাকসদৃশ পণ্য ও ৯.২৬ টন স্ক্র্যাপ পেপার জব্দ
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৩ পিএম   (ভিজিট : ০)

চট্টগ্রাম বন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আনা প্রায় ১৭ দশমিক ৫১ টন পণ্য জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। এর মধ্যে ৮ দশমিক ২৫ টন তামাক ও তামাকসদৃশ সামগ্রী এবং ৯ দশমিক ২৬ টন সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ পেপার রয়েছে। তামাকের চালানে বিভিন্ন রঙের পাউডারজাত পদার্থও পাওয়া গেছে, যা বাহ্যিকভাবে মাদকদ্রব্যের মতো বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা অধিদপ্তর।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বন্দরে কায়িক পরীক্ষার সময় এসব পণ্য শনাক্ত করা হয়। একটি কনটেইনারে থাকা দুটি বিল অব লেডিংয়ের বিপরীতে চালান দুটি আনা হয়েছিল।

কাস্টমস নথি অনুযায়ী, কলকাতা থেকে এমভি উদ্দীপন এক্সপ্রেস জাহাজে করে চালান দুটি চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। জাহাজটি ২০ সেপ্টেম্বর কলকাতা থেকে যাত্রা করে ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। একই মাস্টার বিল অব লেডিংয়ের অধীনে দুটি হাউস বিল অব লেডিংয়ের মাধ্যমে পণ্যগুলো আমদানি দেখানো হয়।

প্রথম চালানটির হাউস বিল অব লেডিংয়ে পণ্যের ঘোষণা দেওয়া হয় ‘পান মসলা অ্যান্ড জর্দা (চুইং টোব্যাকো প্রোডাক্ট)’। নথিতে ৪৭৩ প্যাকেজে পণ্যের ওজন ৮ হাজার ৯৭৪ কেজি উল্লেখ করা হয়। কায়িক পরীক্ষায় ৪৭০ প্যাকেজে ৮ হাজার ২৫০ দশমিক ৪ কেজি তামাক ও তামাকসদৃশ সামগ্রী পাওয়া যায়।

কাস্টমস গোয়েন্দা অধিদপ্তর জানায়, এসব সামগ্রীর মধ্যে ৪২১ প্যাকেজে ৭ হাজার ৩২৫ দশমিক ৪ কেজি গাঢ় বাদামি, ৩১ প্যাকেজে ৫২৭ কেজি বাদামি, ১৩ প্যাকেজে ২৭৩ কেজি ধূসর এবং পাঁচ প্যাকেজে ১২৫ কেজি সাদা রঙের পাউডারজাত পদার্থ রয়েছে।

উদ্ধার করা পাউডারজাত পদার্থগুলো দেখতে মাদকদ্রব্যের মতো হলেও এগুলোতে মাদক বা অন্য কোনো নিষিদ্ধ কিংবা নিয়ন্ত্রিত উপাদান রয়েছে কি না, তা পরীক্ষার আগে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। এ জন্য নমুনা রাসায়নিক ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

দ্বিতীয় চালানটির হাউস বিল অব লেডিংয়ে পণ্যের ঘোষণা দেওয়া হয় ‘প্রিন্টেড পেপার ক্যাটালগ’। নথিতে ১ হাজার ৫৭০ প্যাকেজের ওজন ৯ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৬০ কেজি উল্লেখ করা হয়। তবে কায়িক পরীক্ষায় একই সংখ্যক প্যাকেজে ৯ হাজার ২৬৩ কেজি বা প্রায় ৯ দশমিক ২৬ টন সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ পেপার পাওয়া যায়।

দুটি চালান মিলিয়ে ২ হাজার ৪০টি প্যাকেজে মোট ১৭ হাজার ৫১৩ দশমিক ৪ কেজি পণ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে প্রায় ৮ দশমিক ২৫ টন তামাক ও তামাকসদৃশ পাউডারজাত সামগ্রী এবং ৯ দশমিক ২৬ টন স্ক্র্যাপ পেপার রয়েছে।

তবে কাগজপত্রে আমদানিকারক বা কনসাইনি হিসেবে দেখানো অথৈ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জানিয়েছেন, তিনি বা তাঁর প্রতিষ্ঠান এই আমদানির বিষয়ে কিছুই জানেন না। চালানটির সঙ্গে তাঁদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও লিখিতভাবে জানিয়েছেন তিনি।

প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারীর দাবি, কোনো অসাধু চক্র তাঁদের প্রতিষ্ঠানের নাম ও আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে চালান দুটি এনেছে। প্রকৃত জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, চালান দুটির বিষয়ে তদন্ত চলছে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর উদ্ধার হওয়া পাউডারজাত পদার্থের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে। পাশাপাশি অন্য প্রতিষ্ঠানের নাম ও তথ্য ব্যবহার করে পণ্য আমদানির অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ