বিদ্যুতে জোর, এআইয়ের জ্বালানি-ক্ষুধায় লাগাম টানতে চায় কপ-৩১

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

আবহাওয়া ও পরিবেশ

২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বের মোট চূড়ান্ত জ্বালানি ব্যবহারে বিদ্যুতের অংশ ৩৫ শতাংশে তোলার বৈশ্বিক অঙ্গীকারের প্রস্তাব দিয়েছে জাতিসংঘের

2026-09-21T20:30:37+06:00
2026-09-21T20:30:37+06:00
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

বিদ্যুতে জোর, এআইয়ের জ্বালানি-ক্ষুধায় লাগাম টানতে চায় কপ-৩১
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩০ পিএম   (ভিজিট : ৬)

২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বের মোট চূড়ান্ত জ্বালানি ব্যবহারে বিদ্যুতের অংশ ৩৫ শতাংশে তোলার বৈশ্বিক অঙ্গীকারের প্রস্তাব দিয়েছে জাতিসংঘের আসন্ন জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১-এর আয়োজক দেশ তুরস্ক। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মোকাবিলায় নতুন উদ্যোগের কথাও জানিয়েছে দেশটি। নিউ ইয়র্ক জলবায়ু সপ্তাহের উদ্বোধনী দিন সোমবার কপ-৩১ প্রেসিডেন্সির পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কপ-৩১-এর মনোনীত সভাপতি ও তুরস্কের পরিবেশ ও নগর পরিকল্পনামন্ত্রী মুরাত কুরুম আজ স্থানীয় সময় বিকেল তিনটায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা (অ্যাকশন এজেন্ডা) উপস্থাপন করবেন। অনুষ্ঠানটি ইউএন ওয়েব টিভিতে সরাসরি দেখা যাবে। এবারের জলবায়ু সম্মেলন হবে তুরস্কের আন্টালিয়ায়, ৯ থেকে ২০ নভেম্বর।

উপস্থাপনার আগে এক বিবৃতিতে কুরুম বলেন, উষ্ণ হতে থাকা পৃথিবী, এলোমেলো বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থা এবং এআইয়ের উত্থান নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগ—সবই এখন পদক্ষেপ দাবি করছে। তাঁর ভাষায়, কপ-৩১ এই সময়ের চাহিদা পূরণ করবে।

কুরুম বলেন, এআইয়ের বাড়তে থাকা জ্বালানি ব্যবহার নিয়ে খোলামেলা আলোচনা দরকার এবং এর শর্ত ঠিক করা শুরু করার সময় এসেছে সরকারগুলোর। কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে প্রত্যাশা, তারা নিজেদের জ্বালানি ব্যবহার নিয়ে স্বচ্ছ থাকবে এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে কার্যক্রম চালাবে। তিনি আরও বলেন, শুধু ডেটা সেন্টার নয়, ভবন, পরিবহন ও শিল্পসহ জীবনের সব ক্ষেত্রেই বিদ্যুতায়ন প্রয়োজন।

‘৩৫-বাই-৩৫ গ্লোবাল ইলেকট্রিফিকেশন প্লেজ’ নামের এই অঙ্গীকারের চূড়ান্ত খসড়া আজ সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে। প্রেসিডেন্সির ব্রিফিং নোট অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের চূড়ান্ত জ্বালানি ব্যবহারে বিদ্যুতের অংশ প্রায় ২৩ শতাংশ, আর প্রায় ৭৩ কোটি মানুষ এখনো বিদ্যুৎ-সুবিধার বাইরে। ৩৫ শতাংশের লক্ষ্যকে ‘উচ্চাভিলাষী, তবে অর্জনযোগ্য’ বলছে প্রেসিডেন্সি। তবে নোটে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই লক্ষ্য বাধ্যতামূলক নয় এবং কোনো দেশের ওপর নতুন বাধ্যবাধকতা তৈরি করে না; এটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও জোট গড়ার একটি উন্মুক্ত আমন্ত্রণ। বিভিন্ন দেশের ভিন্ন বাস্তবতা ও পথ স্বীকার করেই লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অঙ্গীকারে পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ, জ্বালানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা, ব্যবস্থার নমনীয়তা এবং আধুনিক ও সহনশীল গ্রিডের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অর্থায়ন জোগাড় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও আছে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য।

লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভবন, পরিবহন ও শিল্প খাতের জন্য একাধিক উদ্যোগ ঘোষণা করা হবে। এর মধ্যে আছে বিদ্যুতায়নে সম্মিলিত অগ্রগতি নজরে রাখার বৈশ্বিক ব্যবস্থা এবং জ্ঞান বিনিময় ও সক্ষমতা বাড়ানোর একটি ফোরাম। উন্নয়নশীল দেশগুলো যাতে গ্রিডে বিনিয়োগের চাহিদা চিহ্নিত করতে, প্রকল্প প্রস্তুত করতে ও অর্থায়ন পেতে পারে, সে জন্যও সহায়তা দেওয়া হবে। এ ছাড়া আরও সবুজ, সহনশীল ও ভালোভাবে সংযুক্ত আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন করিডর গড়তে একটি সহযোগিতা প্ল্যাটফর্ম চালু হবে।

ভবনের ক্ষেত্রে ২০৩৫ সালের মধ্যে জ্বালানি ব্যবহারের তীব্রতা অন্তত ২৫ শতাংশ কমাতে একটি চুক্তি (কমপ্যাক্ট) প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে বিদ্যুতায়নও একটি উপায় হিসেবে থাকবে। আর স্বল্পোন্নত দেশগুলো যাতে শিল্প খাতে কার্বন নিঃসরণ কমাতে অর্থ ও প্রযুক্তি পায়, সে জন্য চালু হবে একটি ম্যাচমেকিং প্ল্যাটফর্ম।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাকে (আইইএ) বিদ্যুতায়নের চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ বিশ্লেষণ করতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে কপ-৩১ প্রেসিডেন্সি। সেই প্রতিবেদন আগামীকাল মঙ্গলবার বিশ্বনেতাদের উচ্চপর্যায়ের সংলাপে আলোচনায় কাজে লাগবে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংস্থার (ইরেনা) সঙ্গে যৌথভাবে বৃহস্পতিবার ‘ইলেকট্রিফিকেশন ডে’ পালন করা হবে। সেখানে জ্বালানি দক্ষতা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাড়াতে বিদ্যুতায়নের ভূমিকা মূল্যায়ন করা হবে। ইরেনার একটি প্রতিবেদনও আজ প্রকাশিত হওয়ার কথা।

এআইয়ের ক্ষেত্রে ‘অ্যান্টালিয়া প্লেজ অন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ নামে একটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার ঘোষণা করা হবে। জলবায়ু ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এআই কীভাবে নকশা, সংগ্রহ, চালনা, প্রয়োগ, পরিমাপ ও ব্যবস্থাপনা করা হবে, তা এতে থাকবে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) ও ইউএনএফসিসিসির সহযোগিতায় তৈরি এই অঙ্গীকারের খসড়া কপ-৩১ শুরুর আগে প্রকাশ করা হবে।

পাশাপাশি ‘এআই ফর ক্লিন টেকনোলজিস’ নামে আরেকটি উদ্যোগের আওতায় স্মার্ট জ্বালানি ও সবুজ শিল্পের মতো অগ্রাধিকার খাতে এআইনির্ভর পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির পাইলট প্রকল্প তৈরি করা হবে এবং সেগুলোকে শিল্প অংশীদার ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। ব্রিফিং নোট অনুযায়ী, উদ্যোগটি চালু করেছে বোয়াজিচি ভেঞ্চার্স/গ্রিনওয়াইজ, তুরস্কের পরিবেশ এবং শিল্প ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সমর্থনে। আয়োজকেরা বলছেন, এসব পাইলট বাস্তবে এআইয়ের দায়িত্বশীল ব্যবহার দেখাবে। কপ-৩১-এ প্রযুক্তি ও এআই নিয়ে একটি বিশেষ দিনও থাকবে।

নিউ ইয়র্ক জলবায়ু সপ্তাহজুড়ে নেতাদের পর্যায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানেরা বিদ্যুতায়ন ও দায়িত্বশীল এআইয়ের প্রতি সমর্থন জানাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সহনশীল নগর ও জলবায়ু অর্থায়ন নিয়েও অংশীদারদের নিয়ে আলাদা অনুষ্ঠান হবে।








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ