তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হচ্ছে। কপ-৩১ সম্মেলনে জলবায়ু ঝুঁকি ও জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা, জলবায়ু অর্থায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কার্বন বাজার, প্রকৃতিনির্ভর সমাধান এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উদ্যোগ তুলে ধরা হবে।
এর অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় দেশের অবস্থান নির্ধারণ, পজিশন পেপার চূড়ান্ত, বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন, সাইড ইভেন্ট এবং প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তুতির অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে মন্ত্রণালয়।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কপ-৩১ কারিগরি সমন্বয় কমিটির দ্বিতীয় সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম।
আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় ৩১তম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন (কপ-৩১) অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ৬ সেপ্টেম্বর কারিগরি সমন্বয় কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের বিষয়ে বুধবারের সভায় আলোচনা হয়।
সভায় জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (ইউএনএফসিসিসি) আলোচ্যসূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের খসড়া পজিশন পেপার প্রস্তুতির অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে এটি চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ন্যায্য রূপান্তর, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম (সিবিএএম), আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা নিয়ে কারিগরি প্রতিবেদন ও নীতিপত্র তৈরির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়।
কপ-৩১-এর আলোচনায় বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো কার্যকরভাবে তুলে ধরতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জোট, উন্নয়নশীল দেশ ও সমমনা রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে যৌথ অবস্থান নেওয়ার সুযোগও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
সম্মেলনস্থলে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত প্যাভিলিয়নে দেশের জলবায়ু ঝুঁকি ও অভিযোজন অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি ৩.০), জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা, জলবায়ু অর্থায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কার্বন বাজার, প্রকৃতিনির্ভর সমাধান এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উদ্যোগ তুলে ধরা হবে।
এ লক্ষ্যে প্যাভিলিয়নের নকশা ও ব্র্যান্ডিং, প্রদর্শনী উপকরণ, সাইড ইভেন্টের সময়সূচি এবং পরিচালন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। পাশাপাশি মূল জলবায়ু আলোচনায় বিষয়ভিত্তিক ও পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নতুন ও তরুণ কর্মকর্তাদের জলবায়ু আলোচনা প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা, প্রতিনিধিদলের নিবন্ধন, ভিসা, যাতায়াত, আবাসন ও স্থানীয় সমন্বয়সহ প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোও সভায় পর্যালোচনা করা হয়।
কপ-৩১ সম্মেলনের প্রস্তুতি সমন্বয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় গত ১৮ আগস্ট একটি কারিগরি সমন্বয় কমিটি ও তিনটি উপকমিটি গঠন করে। উপকমিটিগুলো হলো— পজিশন পেপার প্রণয়ন উপকমিটি, প্যাভিলিয়ন স্থাপন ও সাইড ইভেন্ট আয়োজন উপকমিটি এবং লজিস্টিক সাপোর্ট উপকমিটি।
বুধবারের সভায় তিনটি উপকমিটির কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে কপ-৩১-এর প্রস্তুতি আরও সুসংহত করার বিষয়ে সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কপ-৩১ সম্মেলনের অংশ হিসেবে ১১ ও ১২ নভেম্বর বিশ্বনেতাদের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এফএএইচ
।