নগরায়নের চাপ সামলাতে বাংলাদেশের টেকসই নির্মাণ কৌশল উন্মোচন

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

জাতীয়

নিম্ন-কার্বন ও জলবায়ু সহনশীল নির্মাণ খাতের দিকে বাংলাদেশ আরেক ধাপ এগিয়ে গেল। রাজধানীর পান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বুধবার

2026-09-23T16:53:54+06:00
2026-09-23T16:54:15+06:00
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

নগরায়নের চাপ সামলাতে বাংলাদেশের টেকসই নির্মাণ কৌশল উন্মোচন
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৩ পিএম  আপডেট: ২৩.০৯.২০২৬ ৪:৫৪ পিএম  (ভিজিট : ৪)
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

নিম্ন-কার্বন ও জলবায়ু সহনশীল নির্মাণ খাতের দিকে বাংলাদেশ আরেক ধাপ এগিয়ে গেল। রাজধানীর পান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে "এইচবিআরআই-দেশ" (ডিজাইন ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সাসটেইনেবল হ্যাবিট্যাটস) বাস্তবায়ন নির্দেশিকা।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এইচবিআরআই) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সহযোগী হিসেবে ছিল জাতিসংঘের মানব বসতি কর্মসূচি (ইউএন-হ্যাবিট্যাট), জাতিসংঘ প্রকল্প সেবা দপ্তর (ইউএনওপিএস) এবং জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি)। জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের (বিএমজেড) অর্থায়নে বাস্তবায়িত "ট্রান্সফর্মিং দ্য বিল্ট এনভায়রনমেন্ট থ্রু সাসটেইনেবল ম্যাটেরিয়ালস ইন বাংলাদেশ" প্রকল্পের আওতায় এই উদ্যোগ বাস্তব রূপ পেয়েছে।

এই মাইলফলক মূলত দুই ধাপে বাস্তবায়িত এক কারিগরি সহায়তা কার্যক্রমের সমাপ্তি বহন করছে। প্রথম ধাপে ইউএনওপিএস, এইচবিআরআই ও ইউএনইপি যৌথভাবে গড়ে তোলে এইচবিআরআই-দেশ কাঠামো—টেকসই, সাশ্রয়ী ও জলবায়ু সহনশীল ভবন মূল্যায়ন ও লেবেলিংয়ের জাতীয় ব্যবস্থা—এবং এর সহযোগী ডিজিটাল হাতিয়ার "দেশবোর্ড"।

দ্বিতীয় ধাপে গুরুত্ব দেওয়া হয় কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর, যার ফলাফল হিসেবে ইউএন-হ্যাবিট্যাট প্রস্তুত করে এই বাস্তবায়ন নির্দেশিকা। এতে প্রাতিষ্ঠানিক, প্রশাসনিক, কারিগরি ও পরিচালনগত রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে, যা এইচবিআরআই-দেশ কাঠামোকে দেশের নিয়ন্ত্রক পরিমণ্ডলে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠিত করে সরকার-পরিচালিত একটি হাতিয়ারে রূপান্তরিত করবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন ইউএন-হ্যাবিট্যাটের সিনিয়র হিউম্যান সেটেলমেন্টস কর্মকর্তা ড. জিং ইউ, এছাড়া ভিডিও বার্তা পাঠান ইউএনইপির প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট কর্মকর্তা সেলিয়া মার্টিনেজ হুয়েজ এবং বক্তব্য রাখেন ইউএনওপিএস বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার (দায়িত্বপ্রাপ্ত) নামিরা বসনিয়াক।

কারিগরি অধিবেশনে এইচবিআরআই-এর মহাপরিচালক ড. মো. গিয়াসউদ্দিন হায়দার কাঠামোর মূল দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। ইউএনওপিএসের পক্ষে প্রফেসর ড. মো. আশিকুর রহমান জোয়ারদার উপস্থাপন করেন এইচবিআরআই-দেশ কাঠামো ও দেশবোর্ড। ইউএন-হ্যাবিট্যাটের প্রফেসর ড. শেখ সিরাজুল হাকিম নতুন বাস্তবায়ন নির্দেশিকা ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন, আর গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আব্দুল আওয়াল সরকারের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

নির্দেশিকা আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের কাছে হস্তান্তর করেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মতিন। সমাপনী বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান।

বিশ্বের দ্রুততম নগরায়িত দেশগুলোর একটি বাংলাদেশে গত বিশ বছরে শহুরে জনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ইউএন-হ্যাবিট্যাট ও ইউএনইপির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের জনসংখ্যার ৫০ শতাংশ শহরে বসবাস করবে, আর আবাসন চাহিদা দাঁড়াবে ১ কোটি ৫০ লাখ ইউনিটে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন নির্দেশিকা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে পরিবেশবান্ধব নির্মাণ চর্চা সম্প্রসারণের অপরিহার্য হাতিয়ার বলে মনে করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মতিন বলেন, নির্দেশিকা হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে এইচবিআরআই-দেশ এখন সরকার-চালিত ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হলো, আর এখন মূল লক্ষ্য মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

নির্দেশিকায় প্রাতিষ্ঠানিক শাসন কাঠামো, আন্তঃসংস্থা সমন্বয়, সক্ষমতা বৃদ্ধি, আর্থিক দিক এবং পাইলট প্রকল্পসহ পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়ন কৌশল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা নিয়ন্ত্রক সমন্বয়, আর্থিক প্রণোদনা এবং আর্থিক খাতের কৌশলগত সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দেন।

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ১১, ১২ ও ১৩ অর্জন এবং বাংলাদেশের জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) বাস্তবায়নে এই কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ