প্রকাশ: রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৯ পিএম (ভিজিট : ৫)

ভারতের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, এই ব্যবস্থা ছাত্র চায় না, অন্ধভক্ত চায়। প্রশ্ন করা ছাত্রদের বদলে চোখ বন্ধ করে সবকিছু মেনে নেওয়া মানুষই যেন বর্তমান ব্যবস্থার পছন্দ।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ইন্দোরে ছাত্রদের এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইন্দোরে আয়োজিত ‘ছাত্রদের কণ্ঠ’ নামে ওই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন রাহুল। শিক্ষাব্যবস্থা, প্রশ্নপত্র ফাঁস, নিয়োগ পরীক্ষা, বেকারত্ব, বৃত্তি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজের ধরন নিয়ে ছাত্রদের অভিযোগ শোনেন তিনি।
রাহুল বলেন, একজন প্রকৃত ছাত্র কোনো কথা চোখ বন্ধ করে মেনে নেয় না। তার স্বাভাবিক কৌতূহল থাকে। সে জানতে চায়, কেন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, কেন কোনো ব্যক্তি একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পেলেন, কেন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বারবার ফাঁস হচ্ছে এবং কেন পড়াশোনা শেষ করেও বহু তরুণ চাকরি পাচ্ছেন না।
তার অভিযোগ, বর্তমান ব্যবস্থা ছাত্রদের এই প্রশ্ন করার মানসিকতাকে ভয় পায়। কারণ প্রশ্ন করা মানেই ব্যবস্থার কাছে জবাব চাওয়া। আর সেই কারণেই প্রশ্নহীন মানুষ তৈরি করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তিনি।
রাহুল বলেন, ছাত্ররা জানতে চায় কেন স্কুল ও কলেজের পরিকাঠামো ঠিক নেই। কেন একের পর এক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে। কেন নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার পরও চাকরি দিতে দীর্ঘ সময় লাগছে। কেন বহু পদ খালি পড়ে রয়েছে।
ইন্দোরের ওই অনুষ্ঠানে একাধিক শিক্ষার্থী নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশে বিলম্ব, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ আটকে থাকা, পরীক্ষার অনিয়ম, ছাত্রাবাসের অভাব এবং বৃত্তি নিয়ে সমস্যার কথা জানান তারা।
মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন প্রান্তের ছাত্রছাত্রীরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। শিক্ষার সঙ্গে চাকরির সুযোগের যোগসূত্র নিয়েও কথা বলেন রাহুল। তার বক্তব্য, শুধু শিক্ষা দেওয়া যথেষ্ট নয়। পড়াশোনা শেষ করার পর তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। শিক্ষা, পরীক্ষা এবং চাকরির পুরো ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় থাকা দরকার।
রাহুলের অভিযোগ, শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি পড়ে আছে। বৃত্তি কমে যাওয়া এবং শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারি ব্যয় নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তার বক্তব্যের এসব দাবি নিয়ে অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন তথ্য ও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ছাত্রদের উদ্দেশে রাহুল বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ তাদের হাতে। প্রশ্ন করা বন্ধ করলে সমস্যার কারণ জানা যাবে না। তাই নিজেদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ছাত্রদের প্রশ্ন করতে হবে।
ইন্দোরের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শিক্ষা, চাকরি এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও নতুন করে সামনে এসেছে। রাহুলের বক্তব্যের পর মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব তার সমালোচনা করেছেন এবং রাহুলকে তথ্য ও পরিসংখ্যান দিয়ে কথা বলার আহ্বান জানিয়েছেন।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এফএএইচ