‘ক্যান্সার শুধু বয়স্কদের রোগ নয়’, শিশু ক্যান্সার নিয়ে সচেতনতার আহ্বান

রাজধানী

‘ক্যান্সার শুধু বয়স্কদের রোগ নয়; শিশুরাও এই কঠিন রোগে আক্রান্ত হতে পারে।’ শিশু ক্যান্সার নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে র‍্যালি

2026-09-19T18:27:10+06:00
2026-09-19T18:21:32+06:00
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

‘ক্যান্সার শুধু বয়স্কদের রোগ নয়’, শিশু ক্যান্সার নিয়ে সচেতনতার আহ্বান
প্রকাশ: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৭ পিএম  আপডেট: ১৯.০৯.২০২৬ ৬:২১ পিএম  (ভিজিট : ৩)
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

‘ক্যান্সার শুধু বয়স্কদের রোগ নয়; শিশুরাও এই কঠিন রোগে আক্রান্ত হতে পারে।’ শিশু ক্যান্সার নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে র‍্যালি ও মানববন্ধনের আয়োজন করেছে প্যাডিয়াট্রিক হেমাটোলজি অ্যান্ড অনকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ।  শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) র‍্যালি এবং ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে মানববন্ধন ও প্রেস ব্রিফিং হয়। ‘ভয় নয়, সচেতনতা। বিলম্ব নয়, সময়মতো চিকিৎসা’ স্লোগানে এসব কর্মসূচি পালিত হয়।

আয়োজকেরা জানান, শিশু ক্যান্সার সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো, রোগের প্রাথমিক সতর্কতামূলক লক্ষণ সম্পর্কে অভিভাবকদের অবহিত করা এবং সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিতে উৎসাহিত করাই এসব কর্মসূচির লক্ষ্য।

বিএমইউর উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তিনি বক্তব্যে শিশু ক্যান্সার নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. আফিকুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ডা. চৌধুরী শামসুল হক কিবরিয়া।

বিএমইউর শিশু অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. আতিয়ার রহমানসহ শিশু হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগ এবং শিশু অনুষদভুক্ত অন্যান্য বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক ও রেসিডেন্টরা কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের শিশু বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক ও সোসাইটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু ও কিশোর-কিশোরী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। বাংলাদেশেও শিশু ক্যান্সার একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। আয়োজকেরা বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করে যথাযথ চিকিৎসা শুরু করা গেলে অনেক শিশুর সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ থাকে। কিন্তু সচেতনতার অভাব, রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব এবং চিকিৎসাসেবা গ্রহণের নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে অনেক শিশু সময়মতো চিকিৎসার আওতায় আসতে পারে না।

আফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই মাসটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ক্যান্সার শুধু বয়স্কদের রোগ নয়; শিশুরাও এই কঠিন রোগে আক্রান্ত হতে পারে।’ তাঁর ভাষ্য, শিশু ক্যান্সার নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয় ১৯৯০ সালে। ২০১০ সালে সেপ্টেম্বর মাসকে আনুষ্ঠানিকভাবে শিশু ক্যান্সার সচেতনতা মাস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। মানুষের ধারণা বাড়ানো, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণ, গবেষণায় উৎসাহ দেওয়া এবং আক্রান্ত শিশু ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো ছিল এর মূল উদ্দেশ্য।

চৌধুরী শামসুল হক কিবরিয়া সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিশু ক্যান্সার মোকাবিলায় শুধু চিকিৎসা নয়, জনসচেতনতা বাড়ানো, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসার আওতায় আনাও প্রয়োজন। তিনি বলেন, হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, চিকিৎসক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠন একসঙ্গে কাজ করলে ভুল ধারণা ও অযথা ভয় কমানো এবং চিকিৎসা নিতে বিলম্ব রোধ করা সম্ভব।

অন্য বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন বা বারবার জ্বর, অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে ভাব, শরীরে কালশিটে দাগ বা অস্বাভাবিক রক্তপাত, হাড়ে ব্যথা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা কিংবা শিশুর আচরণে হঠাৎ পরিবর্তনের মতো লক্ষণ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বক্তারা জানান, বাংলাদেশে শিশু ক্যান্সারের প্রকৃত সংখ্যা এখনো জানা যায় না। কারণ, দেশে পূর্ণাঙ্গ জাতীয় শিশু ক্যান্সার নিবন্ধন ব্যবস্থা নেই। বিভিন্ন গবেষণা ও হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর হাজার হাজার শিশু নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। অনেকের রোগ সময়মতো শনাক্ত হয় না, আবার অনেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও পায় না।

বক্তাদের মতে, দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়া, চিকিৎসার উচ্চ ব্যয়, চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানোর অসুবিধা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সহায়ক চিকিৎসার সীমাবদ্ধতা এবং চিকিৎসা অসম্পূর্ণ রেখে দেওয়া দেশের শিশু ক্যান্সার চিকিৎসার বড় চ্যালেঞ্জ। তাঁরা বলেন, দেশব্যাপী শিশু ক্যান্সারের তথ্য সংরক্ষণ ও নিবন্ধন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, চিকিৎসার সুযোগ আরও বিস্তৃত করা এবং প্রতিটি শিশুর জন্য সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এই মাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হওয়া উচিত।








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ