প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১২ পিএম (ভিজিট : ৫)

ছবি : মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে
দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নতি হওয়ায় চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা কমেছে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসাইন। তিনি বলেন, বিশেষ করে হৃদরোগের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য এখন আর বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের ৪৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত কার্ডিওভাসকুলার সার্জিক্যাল কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশে হৃদরোগের চিকিৎসায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে চিকিৎসক ও সার্জনদের দক্ষতা ও সক্ষমতাকে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাতে প্রয়োজন দূরদর্শী ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। হৃদরোগের প্রকোপ বাড়লেও বর্তমানে হার্টের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বিদেশমুখী হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনেক কমে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দেশে হৃদরোগ চিকিৎসার আধুনিকায়নে যেসব প্রথিতযশা চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞ নিরলস পরিশ্রম করেছেন, তাঁদের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশে হৃদরোগ চিকিৎসার প্রারম্ভিক পর্যায়ে দক্ষ সার্জন তৈরিতে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ায় বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র জাপানের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসাইন বলেন, দেশে হৃদরোগ ও জন্মগত হৃদরোগের হার দিন দিন বাড়ছে। এ রোগ কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা না গেলে ভবিষ্যতে উৎপাদনশীল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। হৃদরোগের চিকিৎসা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে সরকার ইতিমধ্যে চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহৃত হার্টের ভাল্ব ও স্টেন্টের ওপর কর মওকুফ করেছে বলেও তিনি জানান। সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ১ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে জানিয়ে তিনি এ ধরনের মানবিক কার্যক্রমে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
দেশের অভিজ্ঞ সার্জন ও অধ্যাপকদের কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে চিকিৎসাসেবার মান ও সক্ষমতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সরকারি বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং রোগীদের প্রয়োজনের মুহূর্তে দ্রুত সেবা দিতে হবে। হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জরুরি বিভাগ সপ্তাহে সাত দিন, দিনে ২৪ ঘণ্টা সচল রাখতে হবে; রোগী ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন এবং ছয় ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, এমপি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে হৃদরোগের সব ধরনের উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। অতীতের অনিয়ম কাটিয়ে বর্তমান সরকার জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ নিশ্চিত করেছে।
আলোচনা সভার আগে সমাজকল্যাণমন্ত্রী একটি বর্ণাঢ্য র্যালিতে অংশ নেন এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৫৩ সালে ডা. জন হেইশাম গিবনের হাত ধরে বিশ্বে ওপেন হার্ট সার্জারির সূচনা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৮১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে কার্ডিও-পালমোনারি বাইপাসের মাধ্যমে বাংলাদেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে প্রথম সফল ওপেন হার্ট সার্জারি সম্পন্ন হয়। এই ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতিবছর ১৮ সেপ্টেম্বর দেশে ‘দ্য ফার্স্ট ওপেন হার্ট সার্জারি ডে’ উদযাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক, বিশিষ্ট কার্ডিয়াক সার্জন, চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।