বিনোদনের নামে সিনেমায় তামাকের প্রচারণা বন্ধের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয়

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী নাটক, সিনেমা ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের দৃশ্য প্রদর্শন এবং এর

2026-09-17T18:20:52+06:00
2026-09-17T18:20:52+06:00
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বিনোদনের নামে সিনেমায় তামাকের প্রচারণা বন্ধের আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২০ পিএম   (ভিজিট : ৬)

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী নাটক, সিনেমা ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের দৃশ্য প্রদর্শন এবং এর প্রচারণা নিষিদ্ধ। তবে ২০২৬ সালে মুক্তি পাওয়া ১২টি সিনেমা পর্যবেক্ষণ করে ৭৫১টি ধূমপান ও তামাক ব্যবহারের দৃশ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ছয়টি সিনেমায় কৌশলে তামাকজাত পণ্যের ব্র্যান্ডও প্রদর্শন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে তামাকবিরোধী সংগঠন ‘মানস’ আয়োজিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন বাস্তবায়নে করণীয় : প্রেক্ষিত নাটক, চলচ্চিত্র, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

সভায় জানানো হয়, পর্যবেক্ষণ করা ১২টি সিনেমার মধ্যে ‘রাক্ষস’-এ ১৯২ বার, ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা’-তে ১৬৫ বার, ‘মালিক’-এ ৯৮ বার, ‘রকস্টার’-এ ৯৫ বার, ‘বনলতা সেন’-এ ৭১ বার এবং ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এ ৬৪ বার ধূমপান ও তামাক সেবনের দৃশ্য রয়েছে।

‘মানস’-এর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল ও সহসভাপতি মেহেদী আজাদ মাসুম, ডেভেলপমেন্ট অ্যাক্টিভিটিস অব সোসাইটি (ডাস)-এর টিম লিড আমিনুল ইসলাম বকুল, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র এবং ‘মানস’-এর কোষাধ্যক্ষ হোসনে আরা বেগম রিনা ও সিনিয়র প্রজেক্ট অ্যান্ড কমিউনিকেশন অফিসার মো. আবু রায়হান।

অধ্যাপক অরূপরতন চৌধুরী বলেন, ধূমপান ও তামাক ব্যবহার ক্যান্সার, হৃদরোগ ও স্ট্রোকসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগের কারণ। তরুণদের তামাক ব্যবহারে আকৃষ্ট করতে তামাক কোম্পানিগুলো নানা বিপণন কৌশল গ্রহণ করছে। সিনেমা, নাটক ও ওয়েব সিরিজে জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মাধ্যমে ধূমপানকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

তরুণদের সুরক্ষায় এ ধরনের প্রচারণা বন্ধে বিনোদনমাধ্যমে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর বাস্তবায়নের পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, কিশোর-তরুণদের মধ্যে তামাকের ব্যবহার বাড়ছে। বিনোদনমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তামাকের প্রচারণা উদ্বেগজনক। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে সার্টিফিকেশন বোর্ড, গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, তামাক খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা হলেও তামাকজনিত স্বাস্থ্য ব্যয় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। তাই রাজস্ব আয়ের চেয়ে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতিকে গুরুত্ব দিয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

নিখিল চন্দ্র ভদ্র বলেন, সিনেমা ও নাটকসহ বিভিন্ন বিনোদনমাধ্যমে সিগারেট ও ই-সিগারেটের দৃশ্য প্রদর্শনের বিরুদ্ধে কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগের নামে দেশে নিকোটিন পাউচের কারখানা স্থাপনের উদ্যোগের বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

সভায় বক্তারা বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি ওটিটিসহ উদীয়মান গণমাধ্যমের জন্য পৃথক গাইডলাইন প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেন। শিশু-কিশোর ও তরুণদের তামাক ও নিকোটিন পণ্যের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে তামাক কোম্পানির বিভিন্ন কৌশল প্রতিহত এবং তামাক ও নিকোটিন পণ্যের বিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ