কর্মজীবী নারীদের জন্য সারাদেশে ডে কেয়ার সেন্টার হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয়

কর্মজীবী নারীদের নিশ্চিন্তে কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ এবং শিশুদের নিরাপদ বিকাশ নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে দেশের শহর, উপশহর ও জনবহুল এলাকায়

2026-09-17T19:34:54+06:00
2026-09-17T19:34:54+06:00
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কর্মজীবী নারীদের জন্য সারাদেশে ডে কেয়ার সেন্টার হবে
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৪ পিএম   (ভিজিট : ০)
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

কর্মজীবী নারীদের নিশ্চিন্তে কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ এবং শিশুদের নিরাপদ বিকাশ নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে দেশের শহর, উপশহর ও জনবহুল এলাকায় আধুনিক মানসম্পন্ন ডে কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি।

বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলগুলোতে শিল্প মালিকদের ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমেও এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব। শিল্প মালিক ও প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত ও কারিগরি সহায়তা দেবে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নবনির্মিত আধুনিক ‘ডে কেয়ার সেন্টার ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার’-এর উদ্বোধন এবং ৪৮ ও ৪৯তম বেসিক ভূমি ব্যবস্থাপনা কোর্স সমাপ্তকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, কর্মজীবী মায়েরা মানসিকভাবে উদ্বেগমুক্ত ও স্বস্তিতে না থাকলে কর্মক্ষেত্রে তাদের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া কঠিন। কর্মজীবী মায়েদের মানসিক স্বস্তি এবং শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে ডে কেয়ার সেন্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমন একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান, যেখানে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ ও অধিকার নিশ্চিত হবে। শিশুদের প্রারম্ভিক সুরক্ষায় ডে কেয়ার সেন্টারের কার্যক্রম দেশব্যাপী জোরদার করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী কর্মজীবী মায়েদের জন্য দেশব্যাপী ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির আওতায় এ আধুনিক ডে কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শিশুদের প্রারম্ভিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে জনবহুল এলাকাগুলোতেও ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে। প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী কর্মকর্তাদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে রেখে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে দেশজুড়ে ডে কেয়ার সেন্টারের চাহিদাও বাড়ছে।

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের প্রকৃত মালিক ১৮ কোটি জনগণ। সরকারি সেবা পাওয়ার মাধ্যমে জনগণ যেন অনুভব করতে পারে যে তারাই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক—সেভাবেই কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিজ্ ফারজানা শারমীন বলেন, কর্মজীবী মায়েদের কর্মদক্ষতা অনেকাংশে নির্ভর করে তাদের সন্তানরা কতটা নিরাপদ পরিবেশে রয়েছে তার ওপর। নবনির্মিত ডে কেয়ার সেন্টারটি প্রশিক্ষণার্থী ও কর্মরত মায়েদের কাজের মান বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) সরকারি সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন।

যেসব সুবিধা থাকছে

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির আওতায় ডে কেয়ার সেন্টার ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারটি স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আসা নারী প্রশিক্ষণার্থীরা সন্তানদের নিরাপদ হেফাজতে রেখে প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পারবেন।

প্রায় ৭৫০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে স্থাপিত এ কেন্দ্রে অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত আয়ার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক শিশুর পরিচর্যা, প্রারম্ভিক বিকাশ ও বিনোদনের ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসম্মত ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শিশুবান্ধব পরিবেশ রয়েছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের সহায়তায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়েছে। ডে কেয়ার সেন্টার ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারের কার্যক্রম প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে। সরকারি ছুটির দিনগুলোতে এর কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে ডে কেয়ার সেন্টার ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারের বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখেন এবং সেবার মান পর্যবেক্ষণ করেন। পরে তিনি ৪৮ ও ৪৯তম বেসিক ভূমি ব্যবস্থাপনা কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ। এ সময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ