‘আমিও ট্রিগার টানতে জানি’ শিক্ষামন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

জাতীয়

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ল কোর্সের ফরম পূরণের ফি অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চাপে ফেলার প্রবণতা নিয়ে

2026-09-15T15:58:46+06:00
2026-09-15T15:58:46+06:00
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

‘আমিও ট্রিগার টানতে জানি’ শিক্ষামন্ত্রীর হুঁশিয়ারি
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৮ পিএম   (ভিজিট : ১১)
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন : ফাইল ছবি

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন : ফাইল ছবি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ল কোর্সের ফরম পূরণের ফি অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চাপে ফেলার প্রবণতা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘাড়ে বন্দুক রেখে গুলি করা চলবে না। আমিও ট্রিগার টানতে জানি।’ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

একই অনুষ্ঠানে তিনি এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি করা শিক্ষকদের শাস্তির আওতায় আনারও ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জ করে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাহলে তো প্রশ্ন ওঠে—এত সংখ্যা কীভাবে বাড়ল? এখন কি এই পরীক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে না? যেসব শিক্ষক পরীক্ষক হিসেবে খাতা ঠিকমতো দেখেননি, তাদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং শাস্তির মুখে পড়তেই হবে।’

ল কলেজের বাড়তি ফি আদায়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ‘পত্রিকায় দেখলাম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রচুর আয় করছে। ল কোর্সের ফরম পূরণের ফি দ্বিগুণ-তিনগুণ করা হয়েছে। কেন? জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কি শুধু টাকা আয় ও তা বাড়ানোর জন্য? এত টাকার প্রয়োজন কেন? সব সমস্যার সমাধান আমি করবোই।’

আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ডিসেম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বইগুলো সময়মতো পৌঁছায় কিনা, তা নিয়ে আমরা অত্যন্ত ব্যস্ত রয়েছি। অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থায় আমরা দায়িত্বে এসেছি। দুর্নীতিতে যখন সবকিছু জর্জরিত ছিল, তখনই আমরা এসেছি। আমাদের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে।’

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আর সেশনজট থাকবে না। আমি চাই, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ফলাফলও যেন ভালো হয়। শিক্ষার্থীরা পাস করে যেন আর বেকার না থাকে। একই সঙ্গে ক্লাসরুম মনিটরিং করতে হবে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম ঠিক করতে হবে, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী কোর্স চালু করতে হবে এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।’


অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবারই প্রথমবারের মতো ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড চালু করেছে। এ বছর ৫৭ জন শিক্ষার্থীকে এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ