প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২২ পিএম আপডেট: ১৫.০৯.২০২৬ ৩:২৭ পিএম (ভিজিট : ৮)

সংগৃহীত ছবি
সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে একটি পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ পুলিশ স্টাফ কলেজের (পিএসসি) পরিচালনা বোর্ডের ২১তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পুলিশ বাহিনীতে প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি ও কম্পিউটার বিজ্ঞানের ব্যাকগ্রাউন্ডের অনেক সদস্য কর্মরত রয়েছেন। তাদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়েই প্রস্তাবিত সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠন করা হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে অ্যাডহক ভিত্তিতে পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ইউনিট এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বিভিন্ন ডিজিটাল অপরাধের তদন্ত ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ পরিচালনা করছে। তবে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় একটি স্থায়ী ও সমন্বিত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
সাইবার অপরাধের ধরন ও পরিধি ক্রমেই বাড়ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সাইবার স্পেসসহ যেকোনো ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশকে সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। এ জন্য পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সদস্যদের উচ্চতর ও আধুনিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মাস্টার ট্রেইনার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও দক্ষ করে তুলতে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রয়োজনে বিদেশ থেকে প্রশিক্ষক এনে অথবা আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা গড়ে তুলে পুলিশ কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ পুলিশ স্টাফ কলেজের পরিচালনা বোর্ডের ২১তম সভায় পিএসসির ভূমি ব্যবহারের জন্য এমআরটির প্রস্তাব, বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের বৈদেশিক অংশের জন্য অর্থ বরাদ্দ, একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র ‘গবেষণা ও উদ্ভাবন সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা, পিএসসির বিধিমালার সরকারি অনুমোদন এবং পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার শর্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অ্যাসোসিয়েশন অব পুলিশ একাডেমিজের সদস্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশে প্রশিক্ষণ আয়োজন ও বিদেশে প্রশিক্ষণার্থী পাঠানো, পিএসসির অবকাঠামো উন্নয়ন, ‘মাস্টার্স ইন ফরেনসিক সায়েন্স’ এবং ‘মাস্টার্স ইন ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম অ্যান্ড গভর্ন্যান্স’ কোর্স চালু, পুলিশ স্টাফ কলেজের রজতজয়ন্তী উদযাপন এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর জন্য প্রশিক্ষণ আয়োজনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও পরিচালনা বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএটিসির রেক্টর সাঈদ মাহবুব খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হাসানুল মতিন, আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ শামীম সোহেলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ স্টাফ কলেজের ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন।