সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় এক বিএনপি নেতা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবারটি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আশরাফুল ইসলাম হাসু ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হাসুর ভাই আরিফুল ইসলাম (হাসান)। তিনি তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ঘটনার সঙ্গে আশরাফুল ইসলাম হাসু বা তাদের পরিবারের কোনো সদস্যের সম্পৃক্ততা নেই।
আরিফুল ইসলাম বলেন, এই সংবাদ সম্মেলন মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্য তুলে ধরার জন্য আয়োজিত, যার আয়োজক ৯নং হাটিকুমরুল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নির্বাচিত সভাপতি আশরাফুল ইসলাম হাসু ও ওয়ার্ডের সম্মানিত জনগণ। তিনি জানান, বিগত আওয়ামী লীগ আমলে ট্রেনে অগ্নিসংযোগ, বিস্ফোরক ও নাশকতাসহ সাতটি মিথ্যা মামলার আসামি ছিলেন আশরাফুল ইসলাম হাসু, যেগুলো এখনো চলমান।
তার দাবি, আশরাফুল ইসলাম হাসু বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত। তিনি মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ বিজ্ঞান দাখিল মাদ্রাসার নির্বাচিত সভাপতি, বৃহত্তর চার গ্রামের ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি, চড়িয়া কান্দিপাড়া গ্রাম পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি এবং ২ নম্বর ওয়ার্ড মাদক ও দুর্নীতি নির্মূল কমিটির সভাপতি।
আরিফুলের অভিযোগ, সংসদ সদস্য ও সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী মাদক ও দুর্নীতি নির্মূলে এই কমিটির প্রচারণার কারণেই ট্রান্সফার-চোর চক্রের সদস্য শামীম মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করেছে। তার দাবি অনুযায়ী, সলঙ্গা থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় (জিআর নম্বর ৮৬/২০২৬) শামীম ১০ নম্বর আসামি এবং মামলাটি এখনো চলমান। আশরাফুল ইসলাম হাসুর নেতৃত্বে চালানো মাদকবিরোধী প্রচারণার কারণে শামীমের চুরি ও মাদক সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত ঘটছে বলেই সে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নির্দোষ ব্যক্তিদের দোষারোপ করে মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করেছে বলে দাবি করেন আরিফুল।
তিনি আরও বলেন, আলী হাসান ও আহমেদ আলী গ্রামপ্রধান এবং স্থানীয় মসজিদের ক্যাশিয়ার, খাদেম ও ব্যবসায়ী। মূল বিষয় হলো—আব্দুল হাকিম ও তার দুই ছেলে দীর্ঘদিন ধরে হাটিকুমরুল ইউনিয়নের সিআরবিসি বাজারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্মিত রিকশা স্ট্যান্ডের জায়গায় অবৈধভাবে হোটেল নির্মাণ করে ব্যবহার করে আসছিলেন। এতে ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষ কৃষিপণ্য বিক্রি বা রিকশা-ভ্যান দাঁড় করানোর জায়গা পাচ্ছিলেন না এবং তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হতো বলে অভিযোগ।
এর প্রেক্ষিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের মাধ্যমে সড়ক ও জনপথ বিভাগে একটি উচ্ছেদ আবেদন জমা দেওয়া হয়, যাতে চার গ্রামের প্রায় ২০০ বাসিন্দা স্বাক্ষর করেন। এর ভিত্তিতে নির্বাহী প্রকৌশলী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং আব্দুল হাকিমকে তিন দিনের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে নিতে নোটিশ দেওয়া হয়—যার অনুলিপি সলঙ্গা থানা হাইওয়ে ফাঁড়ি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও দোকান না সরানোয় ক্ষুব্ধ জনতা সেটি ভেঙে ফেলে এবং সেখানে বাজার নির্মাণ করে।
আরিফুলের ভাষ্য, এই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও মাদকবিরোধী প্রচারণার কারণে ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শামীম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের নামে অপবাদ দিয়েছেন। এ বিষয়ে তারা থানার ওসি ও পুলিশ সুপারের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তিনি জানান, ঘটনার পরদিন পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে গেলে উপস্থিত জনগণ সাক্ষ্য দেন। কাগজপত্র পর্যালোচনা করে পুলিশ সুপার শামীমকে প্রশ্ন করেন, বিশ বছর আগে নোটিশ পাওয়ার পরও কেন তিনি দোকান সরাননি, এবং অবিলম্বে ভাঙা মালামাল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। আরিফুলের দাবি, তারা এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত ছিলেন না এবং ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিতও ছিলেন না। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেন তিনি।
আরিফুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় এবং বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক কারণে নির্যাতনের শিকার হওয়ায় আশরাফুল ইসলাম হাসুর রাজনৈতিক পরিচয় ও সামাজিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আশরাফুল ইসলাম হাসু, আহম্মদ আলী, আনোয়ার হোসেন সুরতসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এনজিটি