প্রকাশ: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১৩ পিএম (ভিজিট : ৯)

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের শিল্প খাতে মারাত্মক আঘাত এসেছে। বিশেষ করে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্পে উৎপাদন কমে ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বগুড়া সার্কিট হাউসে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শিল্পের মূল খোরাক হচ্ছে বিদ্যুৎ। গ্যাস, তেল ও আল্লাহর দেওয়া সৌরশক্তি এই তিন উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। কিন্তু বাংলাদেশ বর্তমানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে একটি বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। এতে শিল্প খাতে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে।
তিনি বলেন, দেশের প্রধান রপ্তানি খাত গার্মেন্টস। সম্প্রতি তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জানিয়েছে, চাহিদা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় তাদের উৎপাদন ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।
জামায়াতের আমির বলেন, উৎপাদন কমে গেলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে পারবে না। একপর্যায়ে তারা ঋণখেলাপি হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ধরে রাখা কঠিন হবে এবং ছাঁটাই করতে বাধ্য হতে হবে। সময়মতো ক্রেতাদের অর্ডার সরবরাহ করতে না পারলে বিদেশি ক্রেতারা অন্য দেশে চলে যেতে পারেন কিংবা দেওয়া অর্ডার বাতিল করতে পারেন। একবার ক্রেতারা চলে গেলে তারা আবার কবে ফিরে আসবেন, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
তিনি আরও বলেন, শুধু বাংলাদেশেই তৈরি পোশাক উৎপাদন হয় না। এ খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে আরও অনেক দেশ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ক্রেতারা বিকল্প দেশগুলোর দিকে চলে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বৃহত্তম রপ্তানি খাতের যদি এমন পরিস্থিতি হয়, তাহলে অন্যান্য শিল্প খাতের অবস্থা সহজেই অনুমান করা যায়। জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যেও অনেক গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তা রয়েছেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর সংসদে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল্লাহও এই খাতের ব্যবসায়ীদের সংকট, আশঙ্কা ও ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, আমরা বারবার সরকারকে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছি। সর্বশেষ গত ৭ সেপ্টেম্বরও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সরকারকে আহ্বান জানিয়েছি। আমাদের একটি টেকনিক্যাল এক্সপার্ট টিম রয়েছে, যারা দেশে ও বিদেশে অবস্থান করছেন এবং এই খাতে অভিজ্ঞ। সরকার সুযোগ দিলে তারা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
দেশকে ভালোবাসি বলেই আমরা এই সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে বিরোধী দল কখনও সরকারকে এ ধরনের সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে কি না, তা তার জানা নেই।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এর আগেও তেলের সংকটের সময় তিনি পাম্পে পাম্পে গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করেছেন। সংসদেও এ নিয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু তখন সরকার সংকট অস্বীকার করেছিল। বিদ্যুৎ সংকটও তারা অস্বীকার করেছে। এমনকি সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যও দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সংসদের ভেতরে সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পেরে তারা আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বৈষম্য দূরীকরণ, বেপরোয়া দলীয়করণ বন্ধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি দমন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষকদের জন্য সার সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ ছয় দফা দাবিতে তারা আন্দোলন করছেন।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এনজিটি