প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৪ পিএম (ভিজিট : ০)

প্রতীকী ছবি
চীনের একটি বন্দরে নোঙর করা বিদেশি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২০ জন নিহত ও ৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শিপিং হাব-খ্যাত কিংদাও বন্দরে নোঙর করা ওই বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজে আগুন লাগার সময় ৪২ জন আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে আহত ৫ জনসহ ১৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৫ জন। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি বলেছে, অগ্নিকাণ্ডের শিকার জাহাজ থেকে ২০ জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
সিসিটিভি বলেছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে জাহাজে লাগা আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এর আগে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া বলেছিল, সকাল ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে ওই জাহাজে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
আগুনের স্পষ্ট কারণ না জানিয়ে সিনহুয়া বলেছে, ‘‘শানডং প্রদেশের কিংদাওয়ে অবস্থিত বেইহাই শিপবিল্ডিং কোম্পানি লিমিটেডে মেরামতের জন্য ভেড়ানো একটি বিদেশি পণ্যবাহী জাহাজে আগুন লাগায় ব্যাপক হতাহতের ওই ঘটনা ঘটে।’’
দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধার তৎপরতা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে এ ঘটনার জন্য দায়ীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সিনহুয়া।
কাছাকাছি একটি আবাসিক এলাকার একজন প্রত্যক্ষদর্শী বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, তিনি জাহাজটি থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখলেও কোনো বিস্ফোরণের শব্দ শোনেননি। তিনি বলেন, হঠাৎ করেই দেখি জাহাজটি থেকে ধোঁয়া উঠছে, তবে খালি চোখে আগুন দেখা যায়নি। আমি কোনো বিস্ফোরণের শব্দ বা পোড়া গন্ধও পাইনি।
ঘটনাঞ্চলের একটি ছবি প্রকাশ করেছে সিনহুয়া। এতে দেখা যায়, ইয়ার্ডে নোঙর করে রাখা ‘ওশান মেলোডি’ নামের বিশাল জাহাজটির সামনে ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি গাড়ি অবস্থান করছে।
জাহাজের গতিপথ পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘ওশান মেলোডি’ ১৯০ মিটার (৬২৩ ফুট) দীর্ঘ একটি বাল্ক ক্যারিয়ার; যা কিংদাও বন্দরে নোঙর করা ছিল।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বলেছে, বিশ্বখ্যাত ‘সিংতাও’ বিয়ারের নামানুসারে পরিচিত কিংদাও শহরটি চীনের অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক কেন্দ্র। এটি বিশ্বের ১৮০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ৭০০টিরও বেশি বন্দরের সঙ্গে যুক্ত।
কিংদাওয়ের বেইহাই শিপবিল্ডিং ইয়ার্ডটি চায়না স্টেট শিপবিল্ডিং কর্পোরেশনের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয়। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, “সব অঞ্চল ও সংশ্লিষ্ট বিভাগকে এ ঘটনা থেকে গভীর শিক্ষা নিতে হবে। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের যেকোনো ঝুঁকি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে তা দূর করার পদক্ষেপ নিতে হবে।”
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে ফুজিয়ান প্রদেশের একটি শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে উদ্ধারকারী দলের ১ কর্মী নিহত ও ১২ জন আহত হন। এর আগে, হংকংয়ে বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬৮ জনের মৃত্যুর পর গত বছরের নভেম্বরে চীনে বহুতল ভবনে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিতে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছিল।
চলতি বছরের মে মাসে দেশটির মধ্যাঞ্চলের একটি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে ৩৭ জন নিহত হন; যা গত কয়েক বছরের মধ্যে চীনের অন্যতম প্রাণঘাতী শিল্প দুর্ঘটনা। এ ছাড়া গত জুলাইয়ে পূর্বাঞ্চলীয় ফুজিয়ান প্রদেশের একটি জুতার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৮ জন প্রাণ হারান।