প্রকাশ: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৯ এএম (ভিজিট : ৫)

৫ ইরানি ট্যাংকারে বোমাবর্ষণ যুক্তরাষ্ট্রের, জর্ডানে পাল্টা হামলা ইরানের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ফের সামরিক সংঘাত উসকে উঠেছে। ওমান উপসাগর এবং ইরানের ‘অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড’ নামে পরিচিত খার্গ দ্বীপের কাছে ৫টি ইরানি ট্যাংকার জাহাজে হামলা করে সেগুলো ‘অকেজো’ করে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
গতকাল ৮ সেপ্টেম্বর এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে বলে এক বার্তায় জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকোম। এদিকে এ হামলার পাল্টা জবাব দিতে জর্ডানের আল আজরাকের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
জর্ডানের প্রতিরক্ষা বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আল আজরাক ঘাঁটি লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরানের সেনাবাহিনী। তবে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের সহায়তায় অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই আটকে দিয়ে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় খার্গ দ্বীপের কাছে ওমান উপসাগরে ইরানের ৫টি ট্যাংকার জাহাজে হামলা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম)। এক্সবার্তায় সেন্টকোমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত রোব ও সোমাবার দু’দিন হরমুজ প্রণালিতে টহলরত মার্কিন যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে আইআরজিসি এবং তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরানের ৫টি ট্যাংকার জাহাজকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করেছে সেন্টকম।
যে ৫টি ট্যাংকার জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, সেগুলোর নামও প্রকাশ করেছে সেন্টকম। জাহাজগুলো হলো— এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন ১, এম/টি রিয়েস্কো এবং এম/টি দেরিয়া।
এগুলোর মধ্যে প্রথম চারটি জাহাজ ছিল ওমান সাগরে এবং পঞ্চমটি ছিল খার্গ দ্বীপের কাছে। হামলায় জাহাজগুলোর ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো ক্রু নিহত বা আহত হয়নি বলে জানিয়েছে সেন্টকম। এক্সবার্তায় বলা হয়েছে, “জাহাজগুলোতে আঘাত হেনে সেগুলোকে অকেজো করে দেওয়ার আগেই মার্কিন বাহিনী সেগুলোর ক্রুদের জাহাজ ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছিল।”
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবি তাদের প্রতিবেদনে ট্যাংকার জাহাজে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এদিকে আল আজরাকের মার্কিন ঘাঁটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এক বিবৃতিতে আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে আঘাত হেনেছে এবং তার জবাব হিসেবে জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ‘ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা’ করা হয়েছে।
সেন্টকমের পক্ষ থেকে দেওয়া এক্সবার্তায় হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার যে অভিযোগ করা হয়েছিল, তা ও স্বীকার করেছে আইআরজিসি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মার্কিন নৌবাহিনীর দুই ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ ইউএস নেভি ডিডিজি-১১৯ এবং ইউএস নেভি ডিডিজি- ৫৩’র গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সেই সঙ্গে নিকট ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রে দুই মিত্র দেশ কুয়েত এবং বাহরাইনের বন্দরগুলোতে হামলার হুমকিও দিয়েছে আইআরজিসি।
“আমরা কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে থাকা তেলবাহী ট্যাঙ্কার জাহাজগুলোর সব ক্রুকে এই মর্মে সতর্কবার্তা দিচ্ছি…জাহাজ নোঙ্গর করা অবস্থায় কিংবা বন্দরে— যে অবস্থাতেই থাকুক, তারা যেন অবিলম্বে জাহাজ ত্যাগ করেন। কারণ সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে”, বলা হয়েছে আইআরজিসির বিবৃতিতে। - সূত্র : আলজাজিরা
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই