প্রকাশ: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২৯ পিএম (ভিজিট : ০)

জাতীয় সংসদ অধিবেশনের পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে সংবিধানে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ঈমান ও আস্থা ফিরিয়ে আনা, নামাজ কায়েম এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে যাকাত ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান।
এ সময় সংসদ সদস্যদের আমল ও চরিত্র গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি সংসদে নামাজের বিরতি যথাযথভাবে কাজে লাগানোর তাগিদ দেন। পরে স্পিকার বিষয়টি ব্যক্তিগত ধর্ম পালনের স্বাধীনতার অংশ উল্লেখ করে সংসদীয় বিধি ব্যাখ্যাসহ গুরুত্বপূর্ণ রুলিং প্রদান করেন।
অধিবেশনে অপর এক পয়েন্ট অব অর্ডারে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সামরিক মহড়ায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দুজন সেনাসদস্যের প্রাণহানির বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে পয়েন্ট অব অর্ডারের সঠিক নিয়ম স্মরণ করিয়ে দেন স্পিকার।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে পৃথক বিষয়ে কথা বলেন তিন সংসদ সদস্য।
সংবিধানে ঈমান ও আস্থার বিধানের প্রসঙ্গ টেনে সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, সংবিধানে অতীতে আল্লাহর প্রতি ঈমান ও আস্থা সংক্রান্ত বিধান মূল উৎস হিসেবে ছিল, যা পরবর্তীতে বাতিল করা হয়েছে। দেশের ৯০ শতাংশের বেশি মুসলমান আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে উল্লেখ করে তিনি সংসদে আসর ও মাগরিবের নামাজের বিরতির কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ক্ষমতার দায়িত্ব পেলে মূল কাজ হলো সালাত কায়েম ও যাকাত ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজ থেকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব দূর করা।
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নামাজ ও যাকাত চালুর তাগিদ দিয়ে স্পিকার ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসনিক উদ্যোগে নামাজ কায়েম ও যাকাত চালু হলে নাগরিকদের চরিত্র গঠনের পাশাপাশি পরকালের জবাবদিহিতার পথ সুগম হবে।
সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের বক্তব্যের জবাবে অধিবেশনের চেয়ার থেকে স্পিকার বলেন, ধর্ম পালনের বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও বিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল। ইসলাম মানবতার ধর্ম উল্লেখ করে স্পিকার জানান, সঠিক উপায়ে ধর্ম পালন করলে বেহেশত পাওয়া যাবে আর অবহেলা করলে জাহান্নামে যেতে হবে এটিই সুনির্দিষ্ট বিধান।
স্পিকার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সংসদীয় কোনো নোটিশ জারি করে কাউকে জোরপূর্বক ধর্ম পালনে বাধ্য করা যায় না। তবে বক্তব্যে প্রকাশিত অনুভূতিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সবাই যেন আল্লাহর বিধান মেনে চলেন সেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এক পর্যায়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম রাশেদ চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাঙ্কের গোলাবর্ষণে দুজন সেনাসদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর সংসদে তুলে ধরেন। তিনি ফায়ারিং অনুশীলনের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় দুই সৈনিক নিহত ও এক কর্মকর্তা গুরুতর আহত হওয়ার খবর আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিকারের মাধ্যমে সংসদকে জানান। তবে এই বক্তব্যের পর স্পিকার পয়েন্ট অব অর্ডারের ব্যবহারের কার্যপ্রণালী বিধি স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি স্পষ্ট করেন, চলতি কোনো আলোচনার ভুলত্রুটি সংশোধন বা বিশৃঙ্খলা এড়াতেই কেবল পয়েন্ট অব অর্ডার ব্যবহার করা যায়। ফলে অনির্ধারিত কোনো দুর্ঘটনার খবর সরাসরি এই বিধিতে আনা সঙ্গত নয়।
এদিকে নামাজ নিয়ে মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান ময়মনসিংহ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ফখরুদ্দিন আহমেদ। পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এমপিদের মসজিদে যাওয়া না-যাওয়া সম্পর্কিত মুজিবুর রহমানের মন্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, কেবল নির্দিষ্ট জায়গা নয়, মসজিদের বাইরেও অনেকে নিয়মিত নামাজ আদায় করেন। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকার তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করেন এবং বিষয়টিকে নতুন বিতর্কে রূপ না দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে অধিবেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখেন।