প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডা. জাহিদ
প্রকাশ: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৯ পিএম (ভিজিট : ২৯)

সংগৃহীত ছবি
"ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক" — এই ধারণাকে সামনে রেখে সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি মাঠ পর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন সমাজকল্যাণ ও মহিলা এবং শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে নেওয়া এই কর্মসূচি চলবে আগামী চার বছর, আর সারাদেশে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলবে নিরবচ্ছিন্নভাবে, প্রতি দুই মাস অন্তর হবে পর্যালোচনা।
তিনি বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরে ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর দু'দিনব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে নিয়োজিত তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণের জন্য আয়োজিত প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, "দেশের অসহায়, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি শতভাগ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে।" তিনি আরও বলেন, "নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলোর একটি। ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের সঙ্গে দল ও মতের কোনো সম্পর্ক থাকবে না। প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষিতদের সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে নির্ভুলভাবে ডাটাবেজ তৈরিতে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।"
প্রশিক্ষণ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুবের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, এমপি এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, "আপনারা প্রশিক্ষণকালীন আপনাদের জ্ঞান একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নেবেন এবং ট্রেনিংটাকে সত্যিকার অর্থে একটা ফলপ্রসূ ও অর্থবহ প্রশিক্ষণ হিসেবে নেবেন, যাতে কেউ প্রশ্ন করলে আপনারা তার যথাযথ সমাধান দিতে পারেন।"
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, এমপি বলেন, "জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় শপথ নেওয়ার ১০ দিনের মাথায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এ দেশের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়ে বাস্তবায়ন করছেন। নারীদের ক্ষমতায়নে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বর্তমান সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।"
তিনি বলেন, "আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ডের পাইলটিংয়ের কাজ শেষ করেছি। এখন অক্টোবর থেকে সারাদেশব্যাপী প্রায় ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। এই কার্ড প্রদানের জন্য সারাদেশব্যাপী উপকারভোগীদের প্রকৃত তথ্য যাচাই-বাছাই ও সংগ্রহের প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে আপনাদের প্রাথমিক পর্যায়ে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এই প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের ডাটাবেজ তৈরিতে সহায়ক হবে।"
তিনি আরও বলেন, "ট্রেনিং সেশনের মূল বিষয়টা হচ্ছে আন্তরিকতা। আমরা সরকারের ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পটাকে কতটা আন্তরিকভাবে গ্রহণ করতে পারছি, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রশিক্ষণে যদি ১০০ জন আন্তরিক মানুষ তৈরি হয়, তাহলে সেই ১০০ জন প্রত্যেকে আরও ১০০ জন করে আন্তরিক মানুষ তৈরি করতে পারবেন এবং নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করে ডাটাবেজ তৈরি করতে পারবেন।"
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, "এই ডাটা কালেকশন কেবলমাত্র ফ্যামিলি কার্ডের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। আমরা একটি সমন্বিত ব্যবস্থার কথা চিন্তা করছি, যেখানে একটি কার্ডের মাধ্যমে সবার তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। এর ফলে বিভিন্ন ধরনের নকল নিবন্ধন বন্ধ করা যাবে, প্রতারণা বন্ধ করা যাবে, অপরাধ প্রতিরোধ করা যাবে।" উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, "একজনের সিমকার্ড দিয়ে আরেকজন অপরাধ করে — সিম নেওয়া হয় একজনের নামে, আর হুমকি দেওয়া হয় অন্যজনের ফোন থেকে। এসব বন্ধ করা যাবে যদি আমরা সঠিকভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে পারি।"
'তথ্যই এখন সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ' উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "একটা সময় বলা হতো 'সময়ই অর্থ', এখন মূল্যবান জিনিস হচ্ছে 'তথ্যই অর্থ'। বাংলাদেশের সব মানুষকে একটা ডাটাবেজের আওতায় আনতে পারলে এই তথ্য দিয়েই সব কাজ সহজ হবে বলে আমি মনে করি। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এ দেশের মানুষের জন্য কী কাজ করে, তা মানুষ আগে তেমনভাবে জানত না। এই ডাটাবেজ তৈরি হয়ে গেলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের প্রভাব আরও দৃশ্যমান হবে এবং মানুষ তা জানতে পারবে।"