প্রকাশ: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০১ পিএম (ভিজিট : ১৬)

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বুধবার প্রশ্নোত্তর পর্বে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বারবার মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা রোধে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দুর্বল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, যথাযথ ব্যয় প্রাক্কলনের অভাব, ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, দুর্বল মনিটরিং এবং জবাবদিহির ঘাটতিসহ নানা কারণে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি পায়।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে ৩টায় সংসদের বৈঠক শুরু হয়। শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণত কোনো একক কারণে ঘটে না। প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন, ক্রয় প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দুর্বলতা সম্মিলিতভাবে এ সমস্যার সৃষ্টি করে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বিষয়টি সরকারের নজরে আসার পর নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে নির্ভুল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা নিশ্চিত করা এবং অনুমোদনের পর দ্রুত বাস্তবায়ন প্রস্তুতি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধনসংক্রান্ত বিদ্যমান নির্দেশিকা সময়োপযোগী করতে সংশোধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ড্যাশবোর্ড স্থাপন করা হচ্ছে। নিয়মিত প্রকল্প পর্যালোচনা ও মাঠপর্যায়ে তদারকিও জোরদার করা হয়েছে।
ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়া প্রকল্পগুলোর বিলম্ব, অনিয়ম, ব্যয় বৃদ্ধি ও সংশোধনের কারণ পর্যালোচনা করে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, যেসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৩০ শতাংশের কম, সেগুলোর উপযোগিতা ও কার্যকারিতা বিবেচনায় পুনর্বিন্যাস, পরিসর পরিবর্তন বা অব্যাহত রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। পাশাপাশি বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে সমন্বিত কর্মসূচির আওতায় গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ই-জিপির ব্যবহার সম্প্রসারণ, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে পেশাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দায়িত্বের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে নীতিমালা হালনাগাদের কাজ চলছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) ভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণে গুরুত্ব দেওয়া এবং সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও জবাবদিহিমূলক করতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস-২০২৫ হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংসদকে জানান তিনি।