ইঞ্জিন সংকটে মুখথুবড়ে পড়ছে পণ্যবাহী ট্রেন

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

জাতীয়

বাংলাদেশ রেলওয়ে সব সময় লোকসানে নিমজ্জিত থাকে। তার মধ্যে আশা জাগানো একটি মাত্র খাত হচ্ছে পণ্যবাহী ট্রেন। যাত্রীবাহী

2026-09-08T20:10:29+06:00
2026-09-08T20:10:29+06:00
মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

ইঞ্জিন সংকটে মুখথুবড়ে পড়ছে পণ্যবাহী ট্রেন
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১০ পিএম   (ভিজিট : ০)
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ রেলওয়ে সব সময় লোকসানে নিমজ্জিত থাকে। তার মধ্যে আশা জাগানো একটি মাত্র খাত হচ্ছে পণ্যবাহী ট্রেন। যাত্রীবাহী ট্রেনে খরচ বেশি হলেও পণ্যবাহী ট্রেনে অল্প খরচে বেশি আয় করে রেল। চট্টগ্রাম-কমলাপুর রুটে কনটেইনার পরিবহন থেকেই সবচেয়ে বেশি আয় করে তারা। কিন্তু ইঞ্জিন সংকটের কারণে আয়ের প্রধান উৎসে টান পড়েছে। 

প্রতিদিন পণ্যবাহী ট্রেন চালাতে ১৩টি ইঞ্জিনের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে সংকট থাকায় মিলছে ৪ থেকে ৫টি ইঞ্জিন। যার কারণে পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের জটিলতার মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। সংশ্লিষ্টরা জানান, এক সময় সিজিপিওয়াই (চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ড) থেকে প্রতিদিন কনটেইনারবাহী ট্রেন ঢাকার কমলাপুর আইসিডিসহ (ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো) দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যেত। কনটেইনারবাহী ট্রেন এবং বিভিন্ন অঞ্চলের তেলবাহী ওয়াগন চলাচলে দিনরাত সরগরম থাকত সিজিপিওয়াই। যাত্রীবাহী ট্রেনের তুলনায় শতভাগ লাভজনক এই খাত রেলওয়ের প্রাণ হলেও ইঞ্জিন সংকটের কারণে এখন তা প্রায় বন্ধের উপক্রম। ট্রেন না চলার কারণে সিজিপিওয়াইয়ে কনটেইনারের স্তূপ জমেছে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ সফিকুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, পণ্যবাহী ট্রেন চালাতে আমাদের ১০-১২টি ইঞ্জিনের প্রয়োজন। কিন্তু ইঞ্জিন সংকটের কারণে সেটি তো আর সম্ভব হচ্ছে না। গত মাসের তুলনায় এ মাসে ইঞ্জিন কিছুটা বেড়েছে। এ মাসে আমরা ৪-৫টি করে ইঞ্জিন দিয়ে চালাচ্ছি। আশা করি দ্রুত সময়ে সমস্যার সমাধান হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ডের (সিজিপিওয়াই) ট্রাফিক ইন্সপেক্টর এনামুল হক সিকদার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ইঞ্জিনের অবস্থা খুবই খারাপ। সিজিপিওয়াই থেকে এখন দিনে মাত্র একটি কনটেইনারবাহী ট্রেন চলাচল করে। আগে প্রতিদিন ৫-৬টি পণ্যবাহী ট্রেন যেত। ট্রেন চলাচল না করার কারণে কনটেইনারের স্তূপ পড়ে গেছে, যা আগে ছিল না। এর মধ্যে কনটেইনারের পরিমাণও বেড়েছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, পর্যাপ্ত ইঞ্জিন না থাকায় চাহিদা অনুযায়ী পণ্যবাহী ট্রেন চালাতে পারছে না। কয়েক বছর ধরে এ সমস্যা চলছে। নতুন ইঞ্জিন না আসা পর্যন্ত এ সংকট কাটার সম্ভাবনা কম। পণ্যবাহী ট্রেনের পাশাপাশি চট্টগ্রাম থেকে ওয়াগনে তেল যায় রংপুর, সিলেট, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ও শ্রীমঙ্গলে। অথচ পর্যাপ্ত ইঞ্জিন মিললে এই রুটে প্রতিদিন ছয় থেকে আটটি ট্রেন চালানো সম্ভব। বন্দর সূত্রের খবর, বাণিজ্য ও অর্থনীতির স্বার্থে কনটেইনার ট্রেনের ইঞ্জিন বাড়ানো দরকার। স্বাভাবিকভাবে ২০০ একক কনটেইনার রেলপথে ঢাকা থেকে কমলাপুর গেলেও এখন যাচ্ছে ৫০টির মতো। ঢাকায় পাঠাতে না পেরে প্রতি কনটেইনার রাখতে আমদানিকারকদের গুণতে হয় ৭-২৮ ডলার। এতে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।


ডেল্টা টাইমস/সিআর/এনজিটি








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ