নিজস্ব সম্পদের ব্যবহার না করায় জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয়

নিজস্ব জ্বালানি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে না পারায় বাংলাদেশ গুরুতর জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন

2026-09-08T19:26:49+06:00
2026-09-08T19:26:49+06:00
মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

নিজস্ব সম্পদের ব্যবহার না করায় জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২৬ পিএম   (ভিজিট : ০)
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

নিজস্ব জ্বালানি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে না পারায় বাংলাদেশ গুরুতর জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ড. সুলতান হাফিজ রহমান। তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যার সমাধানে বারবার বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা সংকটকে আরও জটিল করেছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘বিদ্যুৎ, জ্বালানি পরিস্থিতি ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর এনার্জি অ্যান্ড লজিস্টিকস (সিইএল)।

স্বাগত বক্তব্যে ড. সুলতান হাফিজ রহমান বলেন, ১৯৭০-এর দশকের বৈশ্বিক তেল সংকটের পর থেকে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এলেও নিজস্ব সম্পদকে পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দেশকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তিনি শিক্ষা, গবেষণা ও নীতিগত পরামর্শের মাধ্যমে কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) বাংলাদেশবিষয়ক প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম। তিনি বলেন, আমদানিনির্ভর এবং ডলারভিত্তিক জীবাশ্ম জ্বালানি বর্তমানে দেশের জ্বালানি খাতের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। দেশের বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৯ হাজার ২৭ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে উল্লেখ করে তিনি গ্যাস সরবরাহের অনিশ্চয়তা, আমদানিনির্ভরতা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির ঝুঁকির বিষয় তুলে ধরেন। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ এবং জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।

আরেকটি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কনটেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদুল করিম চৌধুরী। তিনি জ্বালানি নিরাপত্তাকে একটি লজিস্টিকস চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পাশাপাশি এলএনজি ও পেট্রোলিয়াম সরবরাহব্যবস্থা, অবকাঠামোগত প্রস্তুতি এবং জ্বালানি খাতে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন।

পরে অনুষ্ঠিত প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী, এমটিএল বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমন মো. চৌধুরী, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সিনিয়র এনার্জি অ্যাডভাইজার সেবিক মোবাদ্দের, অফানিক্স অ্যানালিটিকসের অ্যাক্টিং চিফ টেকনোলজি অফিসার ফয়েজ আহমেদ নিয়াজ, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর এনার্জি রিসার্চের পরিচালক শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী এবং ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক ড. সেবাস্টিয়ান গ্রোহ। তাঁরা দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা, গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জ্বালানি খাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। তিনি মাতারবাড়ীতে ভাসমান রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট স্থাপন, সমুদ্রের গ্যাস ব্লকে অনুসন্ধানসহ চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আরেয়াত মাহমুদ চৌধুরী এবং সিইএলের পরিচালক ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার আরিফুল ইসলাম এবং ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মুনিবুল হকসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা।

আয়োজকদের মতে, সেমিনারটি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীকারকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে এসডিজি-৭ (সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি) এবং এসডিজি-৯ (শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো) বাস্তবায়নের সঙ্গে এ উদ্যোগ সরাসরি সম্পৃক্ত।


ডেল্টা টাইমস/সিআর/এনজিটি









  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ