প্রকাশ: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০৫ পিএম আপডেট: ০৭.০৯.২০২৬ ৪:১৮ পিএম (ভিজিট : ১০)

সংগৃহীত ছবি
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় নিখোঁজের ২৫ দিন পর রাশেদুল ইসলাম (১৯) নামে এক তরুণের কঙ্কাল, পরনের প্যান্ট ও গেঞ্জি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রধান আসামিসহ তিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিহত রাশেদুল ইসলাম ফুলপুর উপজেলার কৃষ্ণ মহেশপট্টি গ্রামের মো. শাহজাহানের ছেলে। তিনি পেশায় শ্রমিক ছিলেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ফুলপুর উপজেলার কুকাইল গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন (২৪), মো. ছাবেদ আলী ওরফে মিঠুর ছেলে রফিক ওরফে রফিদ (২৮) এবং মৃত আ. রহিমের ছেলে মোজাম্মেল (২৭)।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, রাশেদুল তার বাবার সঙ্গে ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করতেন। কাজ না থাকায় প্রায় দেড় মাস ধরে তিনি বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পাশের এলাকার জসিম, রফিক ও মোজাম্মেলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাদের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকের কাজও করতেন রাশেদুল।
গত ১২ আগস্ট রাত ৯টার দিকে জসিম উদ্দিন মুঠোফোনে রাশেদুলকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরদিন ১৩ আগস্ট সকালে রাশেদুলের মুঠোফোন থেকে তার বাবা শাহজাহানের কাছে একটি কল আসে। ওই কলের অপর প্রান্ত থেকে এক নারীর কণ্ঠে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং দুই ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়। এরপর কয়েক দফা ফোন ও খুদেবার্তা (এসএমএস) আসার পর ওই দিনই ফুলপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন রাশেদুলের বাবা।
পুলিশ জানায়, রাশেদুল নিখোঁজ হওয়ার পর জসিম এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। পরে ২৫ আগস্ট ফুলপুর থানায় জসিমকে প্রধান আসামি এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে অপহরণের মামলা করা হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্য ও ডিজিটাল যোগাযোগ বিশ্লেষণের মাধ্যমে রোববার দুপুরে নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকা থেকে জসিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নিজ এলাকা থেকে রফিক ও মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার জসিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফুলপুর উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের ‘গারোর ভিটা’ এলাকার জঙ্গলে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মাথার খুলিসহ শরীরের বিভিন্ন হাড় এবং রাশেদুলের পরনের একটি প্যান্ট ও গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাস্থলে উদ্ধার করা পোশাক দেখে কঙ্কালটি রাশেদুলের বলে শনাক্ত করেন তার বাবা শাহজাহান।
নিহতের বাবা শাহজাহান অভিযোগ করেন, কিছুদিন আগে রাশেদুল, রফিক ও মোজাম্মেল একসঙ্গে একটি শসাখেতে কাজ করেছিলেন। ওই কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে রফিক ৫০০ টাকা পেলেও রাশেদুলকে দেওয়া হয় ১০০ টাকা। বাকি টাকা দিয়ে রফিক ইয়াবা কিনে সেবন করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এ বিরোধের জের ধরে রাশেদুলকে তিনজন মিলে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।
তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন জানান, উদ্ধার করা দেহাবশেষের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আলামত সংরক্ষণ এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে হাড় ও অন্যান্য আলামত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হবে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এনজিটি