কর অঞ্চল-৮-এর অতিরিক্ত আয়কর কর্মকর্তা সাইফুলের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

অপরাধ

আয়কর বিভাগে উচ্চমান সহকারী হিসেবে চাকরি শুরু করে বর্তমানে কর অঞ্চল-৮-এ অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার পদে দায়িত্ব পালন

2026-09-01T14:53:24+06:00
2026-09-01T14:53:24+06:00
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

দুদকের অনুসন্ধানে অবৈধ সম্পদের সন্ধান
কর অঞ্চল-৮-এর অতিরিক্ত আয়কর কর্মকর্তা সাইফুলের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৩ পিএম   (ভিজিট : ০)

আয়কর বিভাগে উচ্চমান সহকারী হিসেবে চাকরি শুরু করে বর্তমানে কর অঞ্চল-৮-এ অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার পদে দায়িত্ব পালন করছেন সাইফুল ইসলাম। কর অঞ্চল-৮-এর এই কর্মকর্তার অবৈধ সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি দুদকের অনুসন্ধানেও অবৈধ সম্পদের সন্ধান মিলেছে।


সরকারি চাকরির আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানে রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরে অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থে একাধিক ফ্ল্যাট থাকার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বিষয়টি আয়কর ভবনে এখন "টক অব দ্য টাউন"-এ পরিণত হয়েছে।


জানা গেছে, সাইফুল ইসলাম নিজ জেলা পাবনায় জমিও কিনেছেন। সঞ্চয়পত্রসহ তার বিভিন্ন সম্পদের তথ্য এখন সবার মুখে মুখে। এত অর্থ এই সামান্য পদমর্যাদার সহকারী সাইফুল ইসলাম কোথায় পেলেন—এই প্রশ্নই এখন সবার।


২০০৭ সালে উচ্চমান সহকারী পদে আয়কর বিভাগে যোগ দেন সাইফুল ইসলাম। চাকরিজীবনে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে তিনি অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার হিসেবে কর্মরত। অভিযোগ রয়েছে, তুলনামূলক সীমিত সরকারি চাকরির আয় সত্ত্বেও এর মধ্যেই তিনি রাজধানীসহ নিজ জেলায় বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন।


দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সাল থেকে সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানকালে একাধিকবার কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অনুসন্ধানে তার সম্পদের একটি বড় অংশের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।


দুদকের অনুসন্ধানে তিন ফ্ল্যাট

দুদকের অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউন, ব্লক-এ, রোড নম্বর-৮, বাড়ি নম্বর-১৮ এলাকায় সাইফুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর নামে দুটি ফ্ল্যাটের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ধানমন্ডির ৩/৪০ সুলতানগঞ্জ, পশ্চিম ধানমন্ডি এলাকায় তার নামে আরেকটি ফ্ল্যাট থাকার তথ্যও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।


অর্থাৎ রাজধানীর অভিজাত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তার ও তার স্ত্রীর নামে মোট তিনটি ফ্ল্যাটের তথ্য পেয়েছে দুদক, যেগুলোর মালিকানা ও সম্পদের উৎস যাচাই করা হচ্ছে।


পাবনায় বাড়ি, জমি ও সঞ্চয়পত্র

নিজ জেলা পাবনার সদর উপজেলার গোগাছি গ্রামে সাইফুল ইসলামের একটি আলিশান বাড়ি রয়েছে বলেও অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি ব্যাংকে তার অর্ধকোটি টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে।


এ ছাড়া পাবনা জেলা সদরে তার শ্বশুর আফজাল মাহমুদের নামে বহুতল বাড়ি ও কয়েক একর জমি থাকার তথ্যও দুদকের অনুসন্ধানে এসেছে। এসব সম্পদের সঙ্গে সাইফুল ইসলামের কোনো সংশ্লিষ্টতা বা অর্থের উৎস রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করছে সংস্থাটি।


যেসব নথি সংগ্রহ করেছে দুদক

দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, শেয়ারবাজার, রাজউক, সিটি করপোরেশন, ভূমি অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।


তিনি বলেন, সাইফুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর নামে থাকা সম্পদের বিষয়ে এ পর্যন্ত দেওয়া ব্যাখ্যা সন্তোষজনক নয়। ব্যাংকে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গেছে। অনুসন্ধান শেষ না হলেও মামলা করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।


স্ত্রীকে ব্যবসায়ী দেখানোর অভিযোগ

অভিযোগ রয়েছে, সম্পদের উৎস আড়াল করতে সাইফুল ইসলাম তার স্ত্রী আল্লিকা মাহমুদকে ব্যবসায়ী হিসেবে দেখিয়েছেন। আল্লিকা মাহমুদ আগে বেসরকারি চাকরি করলেও বর্তমানে গৃহিণী।


তবে তার আয়কর নথিতে গরু মোটাতাজাকরণ ও মৎস্য ব্যবসা থেকে বছরে উল্লেখযোগ্য আয় দেখানো হয়েছে। বাস্তবে এসব ব্যবসার অস্তিত্ব বা কার্যক্রমের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। আয়কর নথিতে দেখানো এসব আয়ের উৎস ও বাস্তবতা নিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই চলছে বলে জানা গেছে।


স্থায়ী ঠিকানা নিয়েও অভিযোগ

এ ছাড়া চাকরিতে যোগদানের সময় সাইফুল ইসলাম স্থায়ী ঠিকানা নিয়েও অসত্য তথ্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার স্থায়ী নিবাস রাজশাহী বিভাগের পাবনা জেলায় হলেও চাকরির নথিতে ঢাকা বিভাগের ময়মনসিংহ জেলাকে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।


বর্তমানে কর অঞ্চল-৮-এ দায়িত্বে

বর্তমানে সাইফুল ইসলাম কর অঞ্চল-৮, ঢাকার অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার হিসেবে সার্কেল ১৬৯ ও ১৭৬-এর দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।


দুদকের অনুসন্ধান সূত্রের দাবি, ২০২২ সালে গোয়েন্দা অনুসন্ধান শুরুর পর পরবর্তী সময়ে প্রকাশ্য অনুসন্ধান শুরু হয়। এ সময় কয়েক দফা অনুসন্ধান কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। দীর্ঘ অনুসন্ধানে সাইফুল ইসলামের সম্পদের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য ও নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে অনুসন্ধান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়নি।


সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তার অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে পরে কথা বলবেন। তবে পরবর্তীতে তার পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি খুদে বার্তা দিয়েও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।










  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ