চীন থেকে জে-১০ যুদ্ধবিমান কেনার কারণ জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

জাতীয়

চীন থেকে জে-১০ যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন,

2026-09-01T13:46:55+06:00
2026-09-01T13:46:55+06:00
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

চীন থেকে জে-১০ যুদ্ধবিমান কেনার কারণ জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৬ পিএম   (ভিজিট : ০)

চীন থেকে জে-১০ যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, এটি সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অংশ। আধুনিক মাল্টিরোল ফাইটার কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও চীনের বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করা হয়েছে। হিসাব-নিকাশ করে চীনের বিকল্পটি বাংলাদেশের জন্য তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক মনে হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, একই ধরনের সক্ষমতার যুদ্ধবিমান তুলনামূলকভাবে অনেক কম খরচে কেনা সম্ভব। এমনকি হিসাব করলে খরচ অর্ধেকেরও কম, প্রায় এক-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি হতে পারে।

বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর বর্তমান সক্ষমতা নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে থাকা মিগ-২৯ এখন খুব অল্পসংখ্যক এবং সেগুলোও পুরোপুরি কার্যকর নয়। অন্যদিকে এফ-৭ যুদ্ধবিমানগুলো অনেক পুরোনো।

তিনি আরও বলেন, আধুনিক মাল্টিরোল ফাইটার কেনার বিষয়টি ‘ফোর্সেস গোল’ এর মধ্যেই রয়েছে। তাই হঠাৎ করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, বরং এটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অংশ।

তবে যুদ্ধবিমান কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে সতর্ক থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতে মিগ-২৯ কেনার সময় দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল এবং মামলা ও নানা ঘটনাও ঘটেছিল। সরকার এবার এ বিষয়ে সতর্ক থাকবে।

বোয়িং কেনার বিষয়ে সরকারের ঘোষণা আসেনি


বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে বোয়িং কেনার চুক্তি হয়েছে, একজন সাংবাদিক এমন প্রশ্ন করলে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, সরকার এখনো এ বিষয়ে কিছু জানায়নি। ফলে এ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, যদি কোনো চুক্তি হয়ে থাকে, সরকারই তা জানাবে। এ ধরনের চুক্তি গোপন রাখার কোনো বিষয় নয়, সরকার চুক্তি করলে তা অবশ্যই প্রকাশ করবে।

তেল ভিটামিন ডি দিয়ে ফোর্টিফাই করার উদ্যোগ

অন্যদিকে ভোজ্যতেলে ভিটামিন ডি যুক্ত করার প্রস্তাবকে ‘চমৎকার আইডিয়া’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, গবেষণায় কক্সবাজারের জেলেদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যকের শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি পাওয়ার তথ্য তাকে জানানো হয়েছে। অথচ তারা দীর্ঘ সময় সূর্যের আলোতে থাকেন।

তিনি বলেন, প্রতি লিটার তেলে ভিটামিন ডি যুক্ত করতে আনুমানিক ৬৭ পয়সা অতিরিক্ত খরচ হতে পারে এবং প্যাকেজিংয়ে কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন হবে। বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ভোজ্যতেলে ভিটামিন এ এবং লবণে আয়োডিন ফোর্টিফিকেশন করেছে। এর ফলে ভিটামিন এ ও আয়োডিনের ঘাটতি মোকাবিলায় সুফল পাওয়া গেছে। একইভাবে ভিটামিন ডি ফোর্টিফিকেশন করা গেলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সাংবাদিকদের কর্মকাণ্ডকে অপরাধ গণ্য করে ব্যবস্থা নিতে আইন প্রয়োজন

সাংবাদিকদের কোনো কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নিতে হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইন থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেছেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেই তাকে অপরাধী বানানো যাবে না। আইনের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

সাংবাদিকদের একাংশ শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধের সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখেছে, একজন সাংবাদিক এমন করলে জাহেদ উর রহমান বলেন, যাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে এবং সেই অপরাধের আওতায় নেওয়ার মতো তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার হচ্ছে। কয়েকজন সাংবাদিক ইতোমধ্যে এ ধরনের মামলায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগই ছিল সেখানে ন্যায়বিচার ছিল না এবং আইনের ভিত্তিতে কাজ করা হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে আইন থাকলেও তা পরিকল্পিতভাবে খারাপ আইন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তাই বর্তমান সরকার বা ভবিষ্যতের কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে কেউ যেন অন্যায়ের শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে গোপনে বৈঠক বা ষড়যন্ত্রের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো গোপন বৈঠক হয়েছে কি না, সেটি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দেখার বিষয়। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যাহত হতে পারে এমন কোনো তৎপরতা হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় আলাদা ‘সাংবাদিক সুরক্ষা আইন’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হামলা বা নির্যাতনের ঘটনায় প্রচলিত আইনেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন আইন করা যেতে পারে, তবে শুধু নতুন আইন করলেই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এমন নয়। যেখানে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, বিদ্যমান আইনেই সেসব ঘটনার বিচার অব্যাহত রাখা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাংস্কৃতিক কর্মীদের নাম প্রকাশে সতর্ক থাকার আহ্বান

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাংস্কৃতিক কর্মীদের নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, তদন্ত চলাকালে কারও নাম নিয়ে অনুমাননির্ভর আলোচনা করা উচিত নয়। প্রধান প্রসিকিউটর কোনো সাংস্কৃতিক কর্মীর সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ বা চার্জ না হওয়া পর্যন্ত কারও নাম প্রকাশ করা ঠিক হবে না।

তিনি বলেন, সেনসেশনালিজমের জন্য যে কারও একটা নাম বলে ফেলা উচিত নয়। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তা যাচাই করে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠন করা হলে গণমাধ্যম তখন বিষয়টি জানতে পারবে।


ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ