বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে আবারও রক্ত ঝরেছে। আবারও একটি তরুণ প্রাণ ঝরে পড়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে, আবারও একটি পরিবার হারিয়েছে তাদের প্রিয়জনকে, এবং আবারও সামনে এসেছে সেই পুরোনো প্রশ্ন—সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হবে কবে?
গত ৮ আগস্ট মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের মাগুরুলি সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন ২০ বছর বয়সী তারা মিয়া, কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া বস্তি এলাকার আবদুল মালেকের ছেলে। ১০ আগস্ট চাতলাপুর ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে দুই দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে ১২ জুন একই উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম সীমান্তে নিহত হন মুজিব আলী (২০); ১৪ মে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার আমঝোল সীমান্তে খাদেমুল হক (২৫); এবং ৮ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে দুই বাংলাদেশি।
এই ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই—এগুলো দীর্ঘদিনের একটি ভয়াবহ প্রবণতারই ধারাবাহিকতা। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সীমান্তে বিএসএফের হাতে ৩৪ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন—২৪ জন গুলিতে, ১০ জন নির্যাতনে। ২০২৪ সালে নিহত হন ৩০ জন, ২০২৩ সালে ৩১ জন, ২০২২ সালে ২৩ জন এবং ২০২১ সালে ১৮ জন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত গুলিতে সাতজন ও নির্যাতনে আরও তিনজন নিহত হয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে; আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। আগস্টে তারা মিয়ার মৃত্যুতে এই তালিকা আরও দীর্ঘ হলো।
অর্থাৎ বাস্তবতা হলো, সীমান্তে প্রায় প্রতি মাসেই একজন বাংলাদেশি প্রাণ হারাচ্ছেন—একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের নাগরিকের জন্য এর চেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি আর কী হতে পারে? সীমান্তে অপরাধ দমন নিঃসন্দেহে প্রয়োজন, কিন্তু অপরাধ দমনের নামে মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়া কোনো গ্রহণযোগ্য নিরাপত্তা নীতি হতে পারে না।
সীমান্তে প্রাণহানির ইতিহাস নতুন নয়। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই সীমান্তে গুলিবর্ষণ, নির্যাতন ও সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে আসছে। তবে বিস্ময়কর হলেও সত্য, ১৯৭১ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত সীমান্তে নিহত বাংলাদেশিদের কোনো একক, সরকারি ও পূর্ণাঙ্গ হিসাব আজও প্রকাশিত হয়নি। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমের তথ্যের মধ্যে সময়সীমা ও পদ্ধতিগত পার্থক্য রয়েছে। একটি পুরোনো সংকলনে ১৯৭১ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত সীমান্তে ১,৩৯১ জন বেসামরিক নাগরিক ও বিজিবি সদস্য নিহত হওয়ার হিসাব উল্লেখ ছিল। আবার মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর তথ্যমতে, শুধু ২০০০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যেই বিএসএফের গুলিতে ১,২৩৬ জন নিহত ও ১,১৪৫ জন আহত হয়েছেন।
এই দুই হিসাবের সময়কাল ও পদ্ধতি ভিন্ন বলে একত্র করে একটি চূড়ান্ত সংখ্যা দাবি করা সমীচীন নয়। তবে এসব পরিসংখ্যান একটি বিষয় স্পষ্ট করে দেয়—সীমান্ত হত্যা কোনো সাম্প্রতিক বা বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়, বরং কয়েক দশকের দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকট, যাতে ইতিমধ্যে হাজারের বেশি প্রাণ ঝরেছে বলে বিভিন্ন সূত্র ইঙ্গিত দেয়। এত দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে সীমান্তে নিহতদের নির্ভুল, যাচাইযোগ্য ও হালনাগাদ ডেটাবেস তৈরি না হওয়াটাই সবচেয়ে বিস্ময়কর। রাষ্ট্র যদি প্রতিটি প্রাণহানির হিসাব না রাখে, তাহলে সেই মৃত্যুর জবাবদিহি নিশ্চিত হবে কীভাবে?
সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিও নতুন নয়। বাংলাদেশ-ভারতের বিভিন্ন পর্যায়ের বৈঠকে বারবার এই কথা বলা হয়েছে, এবং বিএসএফের পক্ষ থেকেও প্রাণঘাতী অস্ত্রের বদলে নন-লিথাল অস্ত্র ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি এসেছে। গত ১৭ জুন জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সীমান্তে নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়া মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, এবং প্রাণঘাতী অস্ত্রের বদলে নন-লিথাল অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে বিএসএফ একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকায় বিজিবি-বিএসএফের যৌথ নৈশ টহল বাড়ানো এবং কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কথাও জানান।
কিন্তু এত প্রতিশ্রুতি, এত বৈঠক ও এত কূটনৈতিক তৎপরতার পরও যদি প্রতি বছর কয়েক ডজন মানুষ সীমান্তে প্রাণ হারান, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই—সমস্যাটা কোথায়, নীতিতে নাকি বাস্তবায়নে? ১৭ আগস্ট ফেনীর বিলোনিয়া জিরো পয়েন্টে বিজিবি-বিএসএফ বৈঠকে পুশইন, মাদক চোরাচালান ও সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর আগে ২৯ জুলাই নীলফামারী সীমান্তে অধিনায়ক পর্যায়ের বৈঠকে নিরীহ ও নিরস্ত্র ব্যক্তিদের ওপর গুলি চালানো থেকে বিরত থাকতে বিএসএফের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। অর্থাৎ দুই বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতি নেই; ঘাটতি রয়েছে কার্যকর ফলাফলে।
সীমান্ত অপরাধ দমন করতেই হবে—এ নিয়ে দ্বিমত নেই। মাদক চোরাচালান, মানবপাচার, অবৈধ পারাপার, অস্ত্র ও পণ্য চোরাচালানসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু কেউ সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করলে তাকে আটক করে আইনের আওতায় আনা, আর তাকে গুলি করে হত্যা করা—এই দুইয়ের মধ্যে ফারাক আকাশ-পাতাল। আইন ভঙ্গের শাস্তি নির্ধারণ করবে আদালত, সীমান্তরক্ষীর বন্দুক নয়। কোনো ব্যক্তি নিরস্ত্র থাকলে, পালিয়ে গেলে বা তাৎক্ষণিক প্রাণঘাতী হুমকি সৃষ্টি না করলে, তার বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের প্রতিটি ঘটনা তদন্তের আওতায় আসা উচিত।
এই বাস্তবতায় কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি হয়ে উঠেছে:প্রাণঘাতী অস্ত্রের বদলে সিসিটিভি, থার্মাল ক্যামেরা, মোশন সেন্সর, ড্রোনসহ আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি ও অমরণঘাতী কৌশলের ব্যবহার বাড়ানো, যাতে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গুলি না চালিয়েই শনাক্ত ও অনুসরণ করা যায়। সীমান্তরক্ষীদের জন্য সুস্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক Rules of Engagement বা শক্তি প্রয়োগের নির্দেশিকা প্রণয়ন, যেখানে আত্মরক্ষার চরম প্রয়োজন ছাড়া প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ যতটা সম্ভব সীমিত থাকবে।
প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনায় শুধু একটি পতাকা বৈঠকে সীমাবদ্ধ না থেকে যৌথ তদন্ত, ময়নাতদন্ত, আলামত সংগ্রহ, গুলির দিক-দূরত্ব নির্ধারণ, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং জড়িত সীমান্তরক্ষীদের ভূমিকা যাচাই করা, ও তদন্তের ফল জনসমক্ষে প্রকাশ করা। উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিক যোগাযোগের জন্য কোম্পানি, ব্যাটালিয়ন ও সেক্টর পর্যায়ে বিজিবি-বিএসএফ হটলাইন আরও কার্যকর করা, যাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা না করে দ্রুত যোগাযোগে ভুল বোঝাবুঝি প্রাণহানি ছাড়াই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
একই সঙ্গে নজর দিতে হবে সীমান্ত এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে। সীমান্তবর্তী দরিদ্র মানুষের একাংশ জীবিকার তাগিদেই অবৈধ পারাপার বা চোরাচালানের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়ায়। তাদের জন্য কর্মসংস্থান, কৃষি সহায়তা, ক্ষুদ্র ব্যবসার সুযোগ ও বৈধ সীমান্ত বাণিজ্য বাড়ানো গেলে সীমান্ত অপরাধের সামাজিক ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়বে। তবে শুধু দরিদ্র মানুষকে ধরপাকড় করে চোরাচালান বন্ধ হবে না; সিন্ডিকেটের মূল হোতা, অর্থের উৎস ও পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যৌথভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাংলাদেশকেও নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে—বিজিবির নজরদারি ও টহল জোরদার করা, শূন্যরেখা ও নিষিদ্ধ এলাকা সম্পর্কে সীমান্তবাসীকে নিয়মিত সচেতন করা, এবং আইন ভঙ্গকারীদের আইনের আওতায় আনা, যাতে অপরাধের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট থাকে—তবে একই সঙ্গে এটাও নিশ্চিত করতে হবে, অপরাধ দমনের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেন কোনো নিরীহ নাগরিক অকারণে প্রাণ না হারান।
কূটনৈতিক পর্যায়েও বাংলাদেশকে আরও দৃঢ় ভূমিকা নিতে হবে—শুধু ঘটনার পর প্রতিবাদ জানানো নয়, প্রতিটি ঘটনার নথি সংরক্ষণ, তদন্তের ফল দাবি এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার আহ্বান জানানো ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যেতে হবে। উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় সীমান্ত হত্যাকে স্থায়ী এজেন্ডা হিসেবে রাখা প্রয়োজন। প্রয়োজনে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সমন্বয়ে একটি স্থায়ী সীমান্ত মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সীমান্ত হত্যা বন্ধের প্রতিশ্রুতিকে রাজনৈতিক বক্তব্য থেকে বাস্তব নীতিতে পরিণত করা। কারণ প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পর ‘দুঃখ প্রকাশ’ বা ‘তদন্তের আশ্বাস’ মৃত মানুষকে ফিরিয়ে আনতে পারে না। সীমান্তে নিহত একজন তরুণ শুধু একটি সংখ্যা নন—তিনি কারো সন্তান, কারো ভাই, কারো স্বামী বা বাবা, এবং একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ। তার মৃত্যুতে একটি পরিবার অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। তাই সীমান্ত নিরাপত্তা যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক, মানুষের জীবন তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ।
ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে গভীর সামাজিক-সাংস্কৃতিক যোগাযোগ রয়েছে। এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে হলে সীমান্তে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে; একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা তখনই হয়, যখন এক দেশের নাগরিক অন্য দেশের সীমান্তরক্ষীর গুলিতে নিহত হন। তাই এখন সময় এসেছে শুধু প্রতিশ্রুতির পুনরাবৃত্তি নয়, বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার—সীমান্তে জিরো-ফায়ার নীতি কার্যকর করা, প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা, অমরণঘাতী প্রযুক্তি বাড়ানো, প্রতিটি মৃত্যুর যৌথ তদন্ত করা, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং সীমান্তবাসীর জন্য বৈধ জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করা। একই সঙ্গে এমন একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে কোনো ঘটনা ঘটার আগেই সীমান্তে উত্তেজনা শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
আর সবচেয়ে জরুরি হলো, ১৯৭১ থেকে আজ পর্যন্ত সীমান্তে নিহতদের একটি পূর্ণাঙ্গ, যাচাইযোগ্য ও যৌথ তালিকা তৈরি করা—কারণ প্রতিটি প্রাণের হিসাব রাষ্ট্রের কাছে থাকা উচিত। সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামানো কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়; এটি একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিশ্রুতি, মানবিক দায়িত্ব এবং দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত বিষয়।
আর কত তারা মিয়া, মুজিব আলী কিংবা খাদেমুল হকের মৃত্যুর পর আমরা শুধু বলব, ‘ঘটনাটি দুঃখজনক’? দুঃখ প্রকাশে মৃত মানুষ ফিরে আসে না, প্রতিবাদপত্রে পরিবারের শূন্যতা পূরণ হয় না, পতাকা বৈঠকের ছবিতে কোনো মায়ের কান্না থামে না। এখন সময় এসেছে এমন একটি সীমান্ত গড়ে তোলার, যেখানে কাঁটাতার থাকবে, নিরাপত্তা থাকবে, আইন থাকবে, অপরাধ দমন থাকবে—কিন্তু মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়াকে নিরাপত্তার স্বাভাবিক উপায় হিসেবে মেনে নেওয়া হবে না। সীমান্তে গুলির শব্দ নয়, শান্তির বার্তাই হোক দুই দেশের সম্পর্কের পরিচয়। সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামানোর প্রতিশ্রুতি যদি সত্যিই থাকে, তার প্রমাণ দিতে হবে মাঠে—সীমান্তে মানুষের রক্তপাত বন্ধ করে।
লেখক : অনলাইন নিউজ এডিটর, দৈনিক ডেল্টা টাইমস।
ডেল্টা টাইমস/মোহাম্মদ ইয়ামিন/সিআর/এমই