প্রকাশ: রোববার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৯ পিএম (ভিজিট : ০)

ভোটের ফলাফল প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করে সাত কলেজের চলমান ব্যাচগুলোর ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিসিইউ) অন্তর্ভুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও ডিসিইউ আওতায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন তারা।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর ২টায় ঢাকা কলেজের শহীদ মিনারের সামনে এক সংবাদ সম্মেলন এসব দাবি জানান সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সংযুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নাঈভ হাওলাদার।
তিনি বলেন, আধুনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে বর্তমান শিক্ষার্থীদের অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। আশা করি, সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
তিনি আরও বলেন, ডিসিইউ উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলামকে নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তার বক্তব্যের ইতোমধ্যে ব্যাখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। উচ্চশিক্ষাঙ্গনের শিক্ষক-বৃদ্ধিজীবীরা তার বক্তব্যের মর্ম ঠিকই বুঝতে পেরেছেন। অনেকে সংহতি জানিয়েছেন। আমরা শিক্ষার্থীরাও তার বক্তব্যে দ্বিমত করছি না। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলছি, উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে কোনো চক্রান্ত আমরা মেনে নেবো না। সব ষড়যন্ত্র আমরা প্রতিহত করবো।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অ্যাকাডেমিক অধিকার, মানসম্মত শিক্ষা ও আধুনিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিতে ১৩ দফা দাবি জানান তারা।
দাবিগুলো হলো:
১. সাত কলেজের সমন্বয়ে নবপ্রতিষ্ঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির জন্য ‘বিশ্ববিদ্যালয় উপযোগী’ শিক্ষকের ব্যবস্থা করতে হবে। একইসঙ্গে বিদ্যমান শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
২. ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির আওতায় ইতোমধ্যে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। গণস্বাক্ষরের যে ফল ইতোমধ্যে সামনে এসেছে তার প্রজ্ঞাপন আকারে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। ফল প্রকাশের পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চলমান ব্যাচগুলোর অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৩. ডিজিটাল লার্নিং রিসোর্স, ই-জার্নাল, ই-বুক ও ডেটাবেসে সবার জন্য সমান অ্যাক্সেস দিতে হবে।
৪. বিষয়ভিত্তিক প্রয়োজনে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় পাঠদান ও উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ রাখতে হবে।
৫. বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের জন্য আধুনিক ল্যাব সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
৬. বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা চালু ও সম্প্রসারণ করতে হবে। অনতিবিলম্বে প্রত্যেকটি ক্যাম্পাসের জন্য ১টি করে বাস বরাদ্দ করতে হবে।
৭. ঢাকার বাইরের ও আবাসনহীন শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত ও নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা করতে হবে।
৮. গবেষণাবান্ধব পরিবেশ, অবকাঠামো ও শিক্ষার্থী-শিক্ষকের গবেষণায় অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।
৯. শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের গবেষণার জন্য নিয়মিত ও পর্যাপ্ত গবেষণা তহবিল চালু করতে হবে।
১০. বাস্তবসম্মত অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার মেনে সময়মতো ক্লাস, পরীক্ষা, ফলপ্রকাশ ও অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।
১১. ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও মানোন্নয়নে কার্যকর ডুয়াল পরীক্ষা পদ্ধতি চালু ও পরীক্ষার কাঠামো স্পষ্ট করতে হবে।
১২. ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই সাতটি ক্যাম্পাসে যুগোপযোগী এবং বিষয় সংযোজন করতে হবে।
১৩. সাতটি ক্যাম্পাসের দূরত্ব বিবেচনায় নিয়ে রাজধানীর উপযুক্ত স্থানে দ্রুত একটি টিএসসি (ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র) নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ক্যাম্পাসের পাশাপাশি টিএসসি কেন্দ্রিক খেলাধুলা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক কাজ, ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবাসহ নানা সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই