ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি বিষয়ে পড়াশোনার প্রতি চীনা শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে। গত তিন বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে বাংলা ভাষার বিশেষ কোর্সে অংশ নেওয়া চীনা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫ থেকে বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে চীনা শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ বেড়েছে প্রায় ৭৩ শতাংশ।
সোমবার (২৪ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষার বিশেষ কোর্সে অধ্যয়নরত চীনা শিক্ষার্থীরা। উপাচার্যের অফিস সংলগ্ন সভাকক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবছার কামালসহ ইনস্টিটিউটের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে চীনের গুয়াংডং ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজ ও ইউনান মিনজু ইউনিভার্সিটি থেকে মোট ১৫ জন শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষার বিশেষ কোর্সে অংশ নেন। ২০২৫ সালে ইউনান মিনজু ইউনিভার্সিটি, ইউনান ইউনিভার্সিটি ও বেইজিং ফরেন স্টাডিজ ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯ জন এবং চলতি ২০২৬ সালে ইউনান মিনজু ইউনিভার্সিটি, ইউনান ইউনিভার্সিটি, কমিউনিকেশন ইউনিভার্সিটি ও গুয়াংডং ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজ থেকে মোট ২৬ জন শিক্ষার্থী এ কোর্সে অংশ নিচ্ছেন।
ফলে তিন বছরে বাংলা ভাষার বিশেষ কোর্সে চীনা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ১৫ থেকে ২৬ জনে উন্নীত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, এ প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ভাষা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রতিফলন।
সাক্ষাৎকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার ও বন্ধুত্বপূর্ণ। চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার। দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, বোঝাপড়া ও বন্ধুত্ব আরও গভীর করতে ভাষা শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, আমরা চীনা ভাষাসহ তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে চাই। একইভাবে চীনের শিক্ষার্থীরা যাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারে, সে সুযোগও আমাদের আরও বাড়াতে হবে। ভাষা ও সংস্কৃতির বিনিময় দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।
বর্তমান সরকারের তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও বিদেশি ভাষা শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান উপাচার্য। চীনা, জাপানি, কোরিয়ানসহ বিভিন্ন ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার কথা বলেন তিনি।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন ও অবস্থানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার আশ্বাসও দেন উপাচার্য। খাবার, ওয়াই-ফাই, আবাসনসহ শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন বিভিন্ন সুবিধা আরও উন্নত করার বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
চীনা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, যে দেশে যাবেন, সে দেশের ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। ভাষা জানলে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হয় এবং পারস্পরিক সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হয়। চীনা শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে এসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানছেন, এটি দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সৌজন্য সাক্ষাতে চীনা শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের পড়াশোনার অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও সমস্যার কথা উপাচার্যের কাছে তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে খাবারের নাম ও মূল্যসহ মেনু প্রদর্শন, ওয়াই-ফাই সুবিধা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। উপাচার্য বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই