প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪৩ পিএম (ভিজিট : ০)

‘নাইন ইয়ারস গন, থিংক টেন মিনিটস ফর রোহিঙ্গা’ প্রতিপাদ্য ধারণ করে নবম রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবসে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের অনুষ্ঠিত হয়েছে ঘরের ফেরার দাবিতে সমাবেশ।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে উখিয়ার ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশনের ফুটবল মাঠে নাগরিক সংগঠন ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর) আয়োজিত এই সমাবেশে অংশ নেয় উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আশ্রিত বিভিন্ন বয়সের লাখো রোহিঙ্গা।
সমাবেশে গণহত্যায় নিহতদের স্মরণ, রোহিঙ্গাদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির দাবি এবং মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের আহ্বান জানানো হয়।
এসময় বক্তারা বলেন, ২০১৭ সালের সহিংসতার ক্ষত এখনো রোহিঙ্গাদের মনে গভীরভাবে রয়ে গেছে। ৯ বছর পার হলেও স্বজন হারানোর বেদনা, ঘরবাড়ি হারানোর কষ্ট এবং নিজ দেশে ফিরতে না পারার হতাশা এখনো মুছে যায়নি।
রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী মোহাম্মদ রফিক বলেন, আমরা বিশ্বের কাছে দশ মিনিট চাই, ৯টা বছর পার করেছি। এদেশ আমাদের নয় আমরা আমাদের দেশে ফিরতে চাই, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আরকান আমাদের, আমরা আরকানের এর চেয়ে আর বড় কোন সত্য নেই এবং সেটি মানবিক বিশ্বকে গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।
ইউসিআরের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যানেলের সদস্য মোহাম্মদ সৈয়দ উল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়ে যে মানবিক সহায়তা করেছে, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা জন্মভূমি মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চাই। প্রত্যাবাসন হতে হবে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ। শুধু সীমান্ত পার করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো নয়, প্রত্যাবাসনের পর নিরাপত্তা, অধিকার, নাগরিকত্ব, চলাচলের স্বাধীনতা ও জীবিকার নিশ্চয়তাও দিতে হবে।
সমাবেশে বার্মিজ ভাষায় বক্তব্য দিয়ে রোহিঙ্গাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ইউসিআর নেতা মাস্টার শোয়েব।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে এমন ভাবে কাজ করতে হবে, যাতে আমরা ভয় বা অনিশ্চয়তা ছাড়াই ফিরতে পারি।
সমাবেশের একপর্যায়ে দশ মিনিট ধরে রোহিঙ্গা ভাষায় ‘শেষ হত এক্কান ফিরত চাই আরকান’ অর্থাৎ আমাদের শেষ কথা একটাই, আরকানে ফিরতে চাই সহ নানা স্লোগান দিয়ে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয় জানিয়েছে, প্রতিবছরের মতো এবারও এই সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং সার্বিক নিরাপত্তায় ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত এপিবিএন তৎপর রয়েছে।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই