গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় এখন চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি একটি ভুয়া ও অনিবন্ধিত ‘সমিতি’র দোহাই দিয়ে জমি ক্রেতাদের জিম্মি করে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১২ জুলাই উপজেলার দলিল লেখকদের একাংশকে নিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে একটি অনিবন্ধিত সমিতি গঠন করা হয়। গঠনকাল থেকেই এই কথিত সমিতি সাধারণ জমি ক্রেতাদের জন্য চরম ভোগান্তি ও শোষণের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
সরকারি ফির বাইরে হাজার হাজার টাকার চাঁদাবাজি করছে তারা। উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়নের ভুক্তভোগী জমি ক্রেতাদের অভিযোগ, রেজিস্ট্রি করতে এলেই এই অনিবন্ধিত সমিতিকে দলিল প্রতি দিতে হয় বাধ্যতামূলক তিন হাজার ৭০০ টাকা; খাজনার কাগজ না থাকলে অতিরিক্ত আরও ৫০০০ হাজার টাকা আদায় করা হয়; বণ্টননামা দলিলের ক্ষেত্রে সব কাগজপত্র শতভাগ সঠিক থাকা সত্ত্বেও হয়রানির ভয় দেখিয়ে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা!
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, সাব-রেজিস্ট্রারের নাম ভাঙিয়ে ঘুষের এই টাকা সরাসরি গ্রহণ করেন অফিসে কর্মরত পিয়ন পারভেজ এবং কেরানি খোরশেদ।
অবৈধ আয়ের চাঞ্চল্যকর সমীকরণে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যমতে, গোবিন্দগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ২২০০ (দুই হাজার দুইশটি) দলিল সম্পাদিত হয়। সেই হিসাবে, দলিলপ্রতি ৩,৭০০ টাকা হারে কেবল এই অনিবন্ধিত সমিতির নামেই প্রতি মাসে তোলা হচ্ছে আনুমানিক ৮১ লাখ ৪০ হাজার টাকা! পরবর্তীতে জমি ক্রেতাদের থেকে সংগৃহীত এই অবৈধ চাঁদার টাকা দলিল লেখকদের শ্রেণিভেদে টাকা বণ্টন করা হয়। নির্ধারিত টাকা না দিলে দলিল আটকে রাখা হয় বা নানা অজুহাতে দিনের পর দিন হয়রানি করা হয়। এসব অনিয়ম, অবৈধ চাঁদা আদায় ও ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে কথা বলতে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার সোলাইমানের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। কষ্টের উপার্জনে জমি কিনতে এসে এভাবে পদে পদে প্রতারিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। অবিলম্বে এই অনিবন্ধিত সমিতির অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ এবং জড়িত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংসদ সদস্য সহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করছে সচেতন মহল।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই