ডেটা-নির্ভর স্মার্টফোনের দাম ৫০–৬০ ডলারে নামানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

দেশের মানুষের হাতে সাশ্রয়ী দামে ডেটা-নির্ভর স্মার্টফোন পৌঁছে দিতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এসব স্মার্টফোনের দাম ৫০

2026-08-19T13:19:44+06:00
2026-08-19T13:26:22+06:00
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
ডেটা-নির্ভর স্মার্টফোনের দাম ৫০–৬০ ডলারে নামানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১:১৯ পিএম  আপডেট: ১৯.০৮.২০২৬ ১:২৬ পিএম  (ভিজিট : ৬)

দেশের মানুষের হাতে সাশ্রয়ী দামে ডেটা-নির্ভর স্মার্টফোন পৌঁছে দিতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এসব স্মার্টফোনের দাম ৫০ থেকে ৬০ ডলারের মধ্যে রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে বর্তমানে ফিচার মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী বিপুলসংখ্যক মানুষকে ডেটা নেটওয়ার্কে যুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ‘পাওয়ারিং দ্য ফিউচার : রবি কমপ্লিটস ঢাকা মডার্নাইজেশন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রেহান আসিফ বলেন, দেশে এখনো প্রায় ৫০ শতাংশ মোবাইল ব্যবহারকারী ফিচার ফোন ব্যবহার করে। অর্থাৎ মোট মোবাইল গ্রাহক প্রায় ১৪ কোটি হলে এর অর্ধেক অর্থাৎ প্রায় ৭ কোটি মানুষ এখনো ফিচার ফোন ব্যবহার করছেন। বর্তমান সময়ে এ পরিস্থিতির পরিবর্তন জরুরি। আপনারা (রবি) বাংলাদেশের সেরা ডেটা নেটওয়ার্ক তৈরি করছেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ফিচার ফোন ব্যবহারকারী ৫০ শতাংশ মানুষকে একটি উন্নত নেটওয়ার্কের আওতায় ডেটা মোবাইল ফোনে নিয়ে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আপনাদের সহায়তা ও সহযোগিতা করার জন্য আমরা সবকিছু করব।

টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, মোবাইল অপারেটর ও সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, সরকার একা সবকিছু করতে পারে না। নিয়ন্ত্রক সংস্থা একা পারে না, মোবাইল অপারেটররাও একা পারে না। দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়, বিটিআরসি, মোবাইল অপারেটর ও শিল্প সংগঠনগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে পুরো শিল্পকে একটি অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের জন্য আরও ভালো ফলাফল কীভাবে আনা যায়, সেটিই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। আমরা সব লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছি বা সফল হয়েছি এ কথা বলব না। এটি কেবল যাত্রার শুরু। তবে আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেছি এবং সেই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

রেহান আসিফ বলেন, ভৌগোলিকভাবে ঢাকা দেশের খুব ছোট একটি অংশ হলেও জনসংখ্যা ও অর্থনীতির দিক থেকে এর গুরুত্ব অনেক বেশি। বিশ্বের অনেক দেশে যেখানে পুরো দেশের সাইটের সংখ্যা ৫ হাজারের কম, সেখানে শুধু ঢাকাতেই প্রায় ৫ হাজার সাইট রয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে সাইটের জটিলতা, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা, নেটওয়ার্কের শব্দ নিয়ন্ত্রণ, ব্যাকহল ও অন্যান্য কারিগরি চ্যালেঞ্জ। ডেটা ও সংযোগ ছাড়া টেলিযোগাযোগ খাতের অর্থবহ ভবিষ্যৎ নেই। ডেটার সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে হলে ভালো নেটওয়ার্কের পাশাপাশি মানুষের হাতে সঠিক ডিভাইসও থাকতে হবে।

স্মার্টফোনের দাম কমানোর উদ্যোগের কথা তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, বাজেটের আগে স্থানীয় মোবাইল ফোন নির্মাতা, মোবাইল ফোন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সরকার আলোচনা করেছে। মোবাইল ফোন উৎপাদনের কাঁচামালে আগে যে ২৬ থেকে ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত কর, ভ্যাট ও শুল্ক ছিল, তার অনেকটাই কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে তা শূন্য করা হয়েছে এবং কোথাও ২ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, কম দামে মানুষের হাতে ভালো ডিভাইস পৌঁছে দেওয়াই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। স্থানীয় মোবাইল ফোন নির্মাতাদের সঙ্গে আলোচনার পর প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ডলারের মধ্যে অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক ডেটা স্মার্টফোন তৈরি করা সম্ভব হতে পারে বলে তারা জানিয়েছে। এ ধরনের ফোন তৈরির প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার আগ্রহও দেখিয়েছে তারা।

কম দামে স্মার্টফোন মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কিস্তি সুবিধা চালুর কথা উল্লেখ করে রেহান আসিফ বলেন, মোবাইল ফোনকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইএমআই কর্মসূচির আওতায় আনা এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে কিস্তি সুবিধা দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী। আরও উপস্থিত ছিলেন রবি আজিয়াটার প্রধান করপোরেট ও নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা শাহেদ আলম এবং রবি আজিয়াটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াদ সাতারা।

এদিকে রবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৃহত্তর ঢাকার গাজীপুর, সাভার, মানিকগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় ৪ হাজার ৮০০টির বেশি সাইট আধুনিকায়ন করা হয়েছে। নতুন প্রজন্মের ‘গিগা গ্রিন ৪জি/৫জি রেডি’ প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী, ভবিষ্যৎ উপযোগী ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী করা হয়েছে।

রবির দাবি, নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের ফলে বিভিন্ন ক্লাস্টারে গ্রাহক অভিজ্ঞতা সর্বোচ্চ ১২৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নত হয়েছে। কল ড্রপ ২০ শতাংশ কমেছে। বৃহত্তর ঢাকা ও গাজীপুরে ইনডোর কভারেজ আগের তুলনায় তিন গুণ উন্নত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতি জিবি ডেটা ব্যবহারে বিদ্যুৎ খরচ ২০ শতাংশ কমেছে।


ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ