প্রকাশ: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৭ এএম (ভিজিট : ০)

জোনায়েদের ফেসবুক থেকে নেওয়া ছবি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে ‘খদরে’ (বরের জন্য দেওয়া আলাদা করে সাজানো খাবারের থালা) আস্ত খাসি না দেওয়া নিয়ে ঝগড়ার জেরে বিয়ে না করে ফিরে যাওয়ার পরদিনই অন্য মেয়েকে বিয়ে করেছেন জাপান প্রবাসী জোনায়েদ মিয়া। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ১টার দিকে প্রবাসী জোনায়েদ মিয়া নিজের ফেসবুক পোস্ট দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ দিন রাত ১১টার দিকে কসবা উপজেলার নেয়ামতপুর গ্রামে কনের মামার বাড়িতে এ বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। নতুন কনে জান্নাত আক্তার আখাউড়ার নূরপুর গ্রামের জাহের মিয়ার মেয়ে।
তিনি স্থানীয় একটি মহিলা কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী বলে জানা গেছে। কনের মামা তাজু সরকারের নেয়ামতপুর গ্রামের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। জোনায়েদ মিয়ার বাড়িও একই গ্রামে।
পোস্টে তিনি লেখেন, আলহামদুলিল্লাহ, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিবাহ সম্পন্ন হলো। মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। সবার কাছে দোয়া ও শান্তিময়, সুখী দাম্পত্য জীবনের কামনা করছি।
বরের ছোট ভাই পারভেজ বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছে ছয় লাখ টাকা। দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়েছে। তার বিয়ের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বরথালায় (খদরে) আস্ত খাসি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে অভিযোগ ওঠে, সোমবার (১৭ আগস্ট) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে খদরে (বড় থালায় বিশেষ আয়োজন) খাসি না পাওয়ায় বিয়ে না করেই চলে যান জাপান প্রবাসী জোনায়েদ মিয়া। উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
পরে মঙ্গলবার সকালে জোনায়েদ নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে কনে পক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করে লিখেন, বিয়ের আসরে খাওয়া-দাওয়া শেষে কনে পক্ষ পূর্বনির্ধারিত অঙ্কের চেয়ে অতিরিক্ত ১০ গুণ কাবিন দাবি করে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কথা-কাটাকাটি শুরু হয় এবং তাদের বিয়ের আসর থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে কনের জন্য আনা মালামালও ফেরত পাঠানো হয়েছে।
এ ছাড়া কনের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ না থাকায় রাতে কনে পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলেও জানান জোনায়েদ। তার দাবি, বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে হুমকি দেওয়া হয়। পরে টাকা দিয়ে সাংবাদিক ভাড়া করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হয় যে আস্ত খাসি না পেয়ে বিয়ে ভেঙেছেন তিনি।
ভেঙে যাওয়া বিয়ের কনে পক্ষের দাবি, ১৪ আগস্ট উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে লিখিত ফর্দনামায় দুই লাখ টাকা নগদ কাবিনে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং বর পক্ষের প্রতিনিধি মনির হোসেন তাতে স্বাক্ষরও করেন।
কনের পক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগে বর আত্মীয়-স্বজন নিয়ে কনের বাড়িতে পৌঁছালে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়।
পরে ফুল ও গেটের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বরকে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। একপর্যায়ে আত্মীয়-স্বজনদের খাওয়া-দাওয়া শেষে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বরপক্ষের জন্য ‘খদরে’ খাবার দেওয়া হয়। এ সময় খাবারে আস্ত খাসি না থাকায় বর আপত্তি জানান। তিনি খাসি ছাড়া খাবেন না এবং খাসি না দিলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও করবেন না বলে জানান। এ সময় কনের পক্ষের আত্মীয়-স্বজনসহ উপস্থিত অনেকেই তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করেই কনের বাড়ি থেকে একাই ফিরে যান জাপানপ্রবাসী জোনায়েদ।
কনের বাবা শফিক মিয়া বলেন, আমাকে আগে জানানো হলে খদরে খাসির ব্যবস্থা করতাম। এ বিষয়ে আমাকে আগে কিছুই বলা হয়নি। এরপরও আত্মীয়-স্বজনসহ সবাই ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই রাজি হননি।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আশিক মিয়া বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। কোনো বাবা-মাই চান না মেয়ের বিয়েতে এমন ঘটনা ঘটুক। খাসির বিষয়টি আসার পর তাকে অনেকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি খাসি ছাড়া বিয়ে করতে রাজি হননি। অবশেষে বিয়ে না করেই তিনি চলে যান।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই