প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৪:১০ পিএম আপডেট: ১৮.০৮.২০২৬ ৪:১২ পিএম (ভিজিট : ৩০)

ফাইল ছবি
হবিগঞ্জ সদর থানায় আটকের প্রায় ২১ ঘণ্টা পর মুচলেকায় মুক্তি পেয়েছেন স্বঘোষিত পুলিশ হত্যাকারী মাহদী হাসান। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে সোমবার বিকেলে হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। এরপর রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সদর থানার সামনে মাহদীর পরিবারের সদস্য ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা অপেক্ষা করেন।
পুলিশের ভাষ্য, সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের কোর্ট মসজিদের সামনে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া ‘ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। এতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও শহরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কায় ঘটনাস্থল থেকে মাহদী হাসানসহ তিনজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
মুক্তির পর মাহদী হাসান বলেন, অসহনীয় লোডশেডিং, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, গ্যাস সংকট নিরসন এবং দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদে সর্বস্তরের ছাত্র-জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মির্জা সুমন ও রাকিবকে পুলিশ আটক করে। এর প্রতিবাদ জানালে তাকে টেনে-হিঁচড়ে আটক করে থানায় নিয়ে ২১ ঘণ্টা রাখা হয়।
মাহদীর বাবা মাওলানা তৈয়ব আলী বলেন, তার ছেলেকে আটকের পর ২১ ঘণ্টা থানায় রাখা হয়। পরে মঙ্গলবার দুপুরে মুচলেকা রেখে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে কী মুচলেকা নেওয়া হয়েছে বা তাতে কী লেখা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ কোনো তথ্য দেয়নি।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক বলেন, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও শহরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কায় মাহদীসহ তিনজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল।
এ বছরের শুরুতে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ। এরপর ২ জানুয়ারি তাকে ছাড়াতে থানায় যান মাহাদী হাসানের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী। এক পর্যায়ে ওসির কক্ষে ঢুকে পড়েন মাহাদী হাসান। তাকে দম্ভ নিয়ে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা জুলাই আন্দোলনকারীরা সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। আপনি প্রশাসনের লোক হয়ে আমাদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছেন। হবিগঞ্জে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন হয়েছিল, এখানে ১০ জন নিহত হয়েছেন। বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। আমাদের এতগুলো ছেলে কি এমনি এমনি ভেসে এসেছে?’
বিষয়টি নিয়ে প্রচণ্ড সমালোচনা তৈরি হলে ৩ জানুয়ারি মাহাদীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে সমর্থকদের বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ৪ জানুয়ারি তাকে জামিনে মুক্তি দেন আদালত।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের দিনে একদল বিক্ষোভকারী বানিয়াচং থানায় আক্রমণ চালিয়ে অস্ত্র লুট ও অগ্নিসংযোগ করে এবং অর্ধশতাধিক পুলিশকে অবরুদ্ধ করা হয়। গভীর রাতে পুলিশ সদস্যদের থানার ভেতর থেকে উদ্ধারের সময় এসআই সন্তোষ চৌধুরীকে ছিনিয়ে নিয়ে থানা চত্বরেই পিটিয়ে করা হয়। পরদিন তার মরদেহ থানার সামনে একটি গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পুলিশ কর্মকর্তা সন্তোষকে হত্যায় নিজের জড়িত থাকার কথা চলতি বছরের জানুয়ারিতে থানায় বসে সদম্ভে ঘোষণা করে প্রচণ্ড সমালোচিত হয়েছিলেন মাহদী হাসান।