প্রকাশ: রোববার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৭ এএম (ভিজিট : ৩)

দেইর জাহরানি গ্রামে আরেক হামলায় চারজন নিহত ও ১৭ জন আহত হন। ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু রয়েছে। শনিবারের (১৫ আগস্ট) এ হামলাকে গত জুনে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে হওয়া চুক্তির পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
লেবাননের সরকারি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় আনসার গ্রামে একটি বাড়িতে ইসরাইলি বিমানের হামলায় সাতজন নিহত হন। একই দিনে দেইর জাহরানি গ্রামে আরেক হামলায় চারজন নিহত ও ১৭ জন আহত হন। সব মিলিয়ে হামলায় আহত হয়েছেন ১৯ জন।
আগামী মাসের শুরুতে ইতালির রোমে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে অষ্টম দফার সরাসরি আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এর ঠিক আগে এই হামলা চালানো হলো।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেছেন, শনিবারের হামলা আলোচনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় করা চুক্তি বাস্তবায়নের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ‘স্পষ্ট বার্তা’।
তিনি দক্ষিণ লেবাননে চলমান ইসরাইলি হামলার নিন্দা জানান। প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, চুক্তি ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার আন্তর্জাতিক আইন বারবার লঙ্ঘনের কারণে আনসার গ্রামে একটি পুরো পরিবার নিহত হয়েছে।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালামও হামলার নিন্দা জানিয়ে ইসরাইলকে এই ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ উত্তেজনা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, আনসার গ্রামের হামলায় নিহত ব্যক্তিরা কোনো ‘সামরিক অবকাঠামো’র অংশ ছিলেন না এবং নিহত নারী ও শিশুরাও কোনো সামরিক লক্ষ্যবস্তু ছিলেন না।
পালটা জবাবের হুঁশিয়ারি
লেবাননে ইসরাইলি হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে হিজবুল্লাহ। একই সঙ্গে ইসরাইলের সঙ্গে ‘অপমানজনক’ সরাসরি আলোচনা বন্ধ করতে লেবাননের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরাইলের হামলা, চুক্তি লঙ্ঘন এবং নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা আর চলতে দেওয়া হবে না। এসব কর্মকাণ্ডের ‘উপযুক্ত জবাব’ দেওয়া হবে। সংগঠনটি আরও অভিযোগ করেছে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজের দেশের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতে যুদ্ধ আরও বাড়াতে চাইছেন।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই