প্রকাশ: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪৭ পিএম (ভিজিট : ০)

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পরিদর্শন করছেন উদ্ধারকর্মীরা। ছবি: রয়টার্স
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প ও এর পরের কয়েক দফা আফটারশকে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার ভোরে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় এক মিটারের কম উচ্চতার সুনামির ঢেউও রেকর্ড করা হয়েছে।
উদ্ধারকারী সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, ফ্লোরেস দ্বীপের সিকা জেলার প্রধান শহর মাউমেরেতে এখন পর্যন্ত ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও ছয়জন আহত হয়েছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে দুজন আটকা পড়েছেন।
মাউমেরে উদ্ধার সংস্থার প্রধান ফাথুর রহমান রয়টার্সকে বলেন, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের সবচেয়ে কাছের নাগেকেও এলাকায় এখনো উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারেনি। সেখানে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। ভূমিধসের কারণে সড়কপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। আরেকটি দল ফেরিতে করে সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবি জানিয়েছে, নাগেকেও এলাকায় প্রায় দুই হাজার মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন। সেখানে বেশ কয়েকটি বাড়ি, গুদাম ও সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ এবং যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ভূমিকম্পের পর কয়েকটি এলাকায় এক মিটারের কম উচ্চতার সুনামির ঢেউ আঘাত হানে। উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতা জারি করা হলেও প্রায় তিন ঘণ্টা পর তা প্রত্যাহার করে নেয় কর্তৃপক্ষ।
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া ও ভূকম্পন সংস্থা বিএমকেজি জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর গভীরতা ছিল ১৫ কিলোমিটার। এরপর আরও কয়েকটি আফটারশক অনুভূত হয়।
ইস্ট নুসা তেনগারা, ওয়েস্ট নুসা তেনগারা এবং দক্ষিণ সুলাওয়েসির কিছু অংশে শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। অনেক বাসিন্দা জানান, প্রায় এক মিনিট ধরে মাটি কেঁপেছে। আতঙ্কে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। মাউমেরে বন্দরের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ভবনের অংশ ধসে পড়ার পর লোকজন চিৎকার করতে করতে রাস্তায় ছুটে যাচ্ছেন। ভিডিওটির অবস্থান রয়টার্স যাচাই করেছে।
ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। পৃথিবীর ভূত্বকের কয়েকটি টেকটোনিক প্লেটের মিলনস্থলে হওয়ায় দেশটিতে প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই