প্রকাশ: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৭ পিএম (ভিজিট : ০)

ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের গতি দেখে হতবাক ইসরায়েলের সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। বিশেষ করে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ফিরে আসায় উদ্বেগ বেড়েছে ইসরায়েলিদের মধ্যে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের মূল পর্ব শেষ হওয়ার পর ইরান যে গতিতে নিজেদের সামরিক বাহিনী পুনর্গঠন করেছে, তা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বিস্মিত করেছে। ইরান নতুন করে এমন সক্ষমতা গড়ে তুলতে বেশ কিছু সৃজনশীল পদ্ধতি ব্যবহার করছে বলেও ধারণা করছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা।
এর আগে, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালানোর সময় ইরানের কাছে প্রায় ১ হাজার ৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র ছিল বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফের যখন যুদ্ধ শুরু হয়, সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৫০০ দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এদিকে, প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত গতিতে ইরান অস্ত্র তৈরি করছে বলে দাবি করেছে জেরুজালেম পোস্ট। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হিসাবেও একই ধরনের চিত্র উঠে এসেছে।
গত মে মাসে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে চার মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে যে সময় লাগবে বলে তারা আগে ধারণা করেছিলেন, দেশটি সেই সময়সীমার চেয়েও দ্রুত সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। এসময় মার্কিন গোয়েন্দাদের মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, ইরান ছয় মাসের মধ্যে, অর্থাৎ নভেম্বরের মধ্যে ড্রোন হামলার সক্ষমতা পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করতে পারবে।
এছাড়া, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান চীন থেকে সরবরাহ অব্যাহত থাকার বিষয়েও উদ্বিগ্ন মার্কিন কর্মকর্তারা। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি সিএনএনকে জানিয়েছেন, চীন ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির বিভিন্ন উপাদান দিয়ে যাচ্ছে। তবে, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এ ধরনের সরবরাহ কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের সামরিক সক্ষমতা দ্রুত পুনরুদ্ধারের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে পেন্টাগনের।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে কয়েকটি সূত্র জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব এটিএসিএমএস ও প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল ব্যবহার করা শেষ। ফলে, এখন যদি তারা ইরানে বড় ধরনের হামলা চালাতে চায়, তাহলে কেবল বোমারু বিমানের ওপর নির্ভর করতে হবে।