শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে মিলল প্রায় ৭১ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার-বিদেশি মুদ্রা

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

সারাদেশ

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স থেকে এবার পাওয়া গেছে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। এ ছাড়া

2026-08-15T19:16:23+06:00
2026-08-15T19:37:28+06:00
শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩

শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে মিলল প্রায় ৭১ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার-বিদেশি মুদ্রা
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৬ পিএম  আপডেট: ১৫.০৮.২০২৬ ৭:৩৭ পিএম  (ভিজিট : ৫)

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স থেকে এবার পাওয়া গেছে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। এ ছাড়া পাওয়া গেছে সোনা-রুপা ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা। প্রায় ৩৪ দিন পর আজ শনিবার সকাল ১০টায় মাজারের তিনটি ডেগ ও তিনটি দানবাক্স খুলে জড়ো করা হয় এসব টাকা।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হয় টাকা গণনা। প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবী মিলে এই বিপুল অঙ্কের টাকা গণনা করেন। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে প্রাপ্তির হিসাব ঘোষণা করেন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত উচ্চ কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী।


তিনি বলেন, এবার দানবাক্সে দেশীয় মুদ্রার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রাও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যের ৩১ দশমিক ১১ পাউন্ড, ভারতীয় ৩ হাজার ২৪৮ রুপি, পাকিস্তানি ৬০ রুপি, সৌদি আরবের ৭০ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ৮৩ রিঙ্গিত, যুক্তরাষ্ট্রের ৪ ডলার, নেপালের ১০০ রুপি, ওমানের ১ রিয়াল, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৬৪ দশমিক ২২ দিরহাম, ইরাকের ২৫০ দিনার, তুরস্কের ৯০ লিরা, ভিয়েতনামের ১ হাজার ডং, জাপানের ১ হাজার ইয়েন, কাতারের ১১২ দশমিক ৫০ রিয়াল, লেবাননের ১০ পাউন্ড, মিসরের ১০ পাউন্ড, দশমিক ৪০ ইউরো, বাহরাইনের দশমিক ১ দিনার ও কানাডার ১ ডলার। এ ছাড়া পাওয়া গেছে ২ ভরি ১ রতি সোনা ও ১ ভরি ২ আনা রুপা।


দানবাক্সে টাকা-পয়সার পাশাপাশি পাওয়া গেছে অসংখ্য চিঠিও। বিভিন্ন প্রত্যাশা নিয়ে লেখা এসব চিঠিতে উঠে এসেছে পারিবারিক অশান্তি, পরিবারে মাদকের ভয়াবহতাসহ রাজনৈতিক নানা প্রত্যাশার কথা।


তবে দানের গরু-ছাগলসহ পশুর হিসাব এদিন ঘোষণা করা হয়নি। আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, সেগুলো মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে রয়েছে।


মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে প্রথমবারের মতো উদ্যোগ নেন সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। গত ১২ জুন দুপুর দেড়টার দিকে তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পরিদর্শনে যান। সেখানে মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দানবাক্সে তালা দেওয়া হয়। এরপর ১৮ জুন বিকেল চারটার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে মাজারে নতুন দানবাক্স স্থাপন করে জেলা প্রশাসন।


পরে গত ২২ জুন প্রথমবারের মতো মাত্র চার দিনের জমা হওয়া দানের টাকা প্রকাশ্যে গণনা করা হয়। সেদিন গণনায় নগদ ১৭ লাখ ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। এর ১৮ দিন পর দ্বিতীয় দফায় গত ১১ জুলাই খোলা হয় দানবাক্স, সেদিন নগদ ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া যায়। ওই সময়ও একাধিক দেশের মুদ্রা ও স্বর্ণালংকারসহ নানা সামগ্রী পাওয়া গিয়েছিল।








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ